দ্য ওয়াল ব্যুরো : এই শীতে চিন সীমান্তে বেড়াতে গিয়েছিলেন কয়েক হাজার পর্যটক। বছরের শেষে শুরু হল তুষারঝড়। আটকে পড়লেন তিন হাজার মানুষ। তাঁদের মধ্যে নারীরা আছেন। শিশুরাও আছে। পর্যটকদের উদ্ধার করে নিজেদের ব্যারাকে রেখেছে সেনা। তাঁদের খাবার ও শীতের উপযোগী জামাকাপড়ও দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারত-চিন সীমান্তে নাথুলা পাস ঘুরে ফিরে আসছিল পর্যটকদের তিন-চারশ বাস। ১৭ মাইল এলাকায় বাসগুলি আটকে পড়ে। উদ্ধারে ছুটে যায় সেনাবাহিনী। তাদের সঙ্গে ছিল গরমের কাপড়, পোশাক ও ওষুধ। ১৭ মাইল অঞ্চলে ১৫০০ পর্যটককে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। বাকিদের রাখা হয়েছে ১৩ মাইল এলাকায়। ডোজার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে রাস্তা থেকে বরফ সরানোরও কাজ চলছে।
এখনও এলাকায় তুষারপাত চলছে। পর্যটকরা আটকে রয়েছেন। তবে সেনাবাহিনী আশ্বাস দিয়েছে, ঠিক সময়ে তাঁরা গ্যাংটকের রাস্তায় রওনা হবেন।
সাধারণত মে থেকে অক্টোবর মাসে নাথুলা পাসে বেড়াতে যেতে পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে এখন সারা বছরই পর্যটকরা যান। এই শীতে সেখানকার তাপমাত্রা নেমে যায় শূন্যেরও অনেক নীচে। কিন্তু আকাশ থাকে পরিষ্কার। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখা যায় আরও ভালো করে। সেজন্য নাথুলায় বেড়াতে যাওয়ার জন্য অনেকে শীতের সময়টাই বেছে নেন।
শীতে ওই অঞ্চলে তুষারঝড় হয় নিয়মিত। ফলে বিপদে পড়ারও সম্ভাবনা থাকে। তখন তাপমাত্রা শূন্যের ২৫ ডিগ্রি নীচে নেমে যেতে পারে।
পূর্ব সিকিম জেলায় হিমালয়ের এক গিরিপথের নাম নাথুলা পাস। ওই পথ দিয়ে সিকিম থেকে চিনের তিব্বতে স্বশাসিত অঞ্চলে যাওয়া যায়। ওই গিরিপথ হিমালয় থেকে ৪৩১০ মিটার উঁচুতে। তা সুদূর অতীতের সিল্ক রুটের অংশ। নাথু মানে ‘কানে শোনা’। লা মানে ‘গিরিপথ’।
সিকিমের রাজধানী থেকে পূর্বে ৫৪ কিলোমিটার গেলে নাথুলা পাসে পৌঁছানো যায়। ওই পথে ভারত ও চিনের বাণিজ্য হয়। ১৯৬২ সালে ভারত-চিন যুদ্ধের সময় ওই অঞ্চলে দুই দেশের সেনার সংঘর্ষ হয়েছিল। বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছিলেন। পরে ওই গিরিপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২০০৬ সালে ফের খুলে দেওয়া হয়। এর ফলে হিন্দু ও বৌদ্ধ তীর্থস্থানগুলিতে আরও সহজে যাতায়াত করা যায়। ওই অঞ্চলে ভারত ও চিন, দুই দেশেরই সেনাবাহিনী মোতায়েন করা আছে।