দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত সপ্তাহে বালাকোটে বায়ুসেনার হানায় ঠিক কতজন মারা গিয়েছে?
এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি। কিন্তু রবিবার গুজরাতে ভোটের জনসভায় বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ দাবি করলেন, মৃতের সংখ্যা ২৫০-এর বেশি। জঙ্গিদের মৃত্যু নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। গত কয়েকদিন ধরেই বিষয়টি নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছে। পাকিস্তানের দাবি, কেউ মারা যায়নি। এর পরে শাসক বিজেপির পক্ষ থেকে এই প্রথম অমিত শাহের মতো কোনও বড় নেতা ঘোষণা করলেন, বায়ুসেনার আক্রমণে আড়াইশ-র বেশি জঙ্গি মারা গিয়েছে।
আমেদাবাদে সভায় অমিত বলেন, উরিতে আমাদের বাহিনী সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করেছিল। আমাদের সৈনিকদের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিয়েছিল। পুলওয়ামার ঘটনার পরে সকলেই ভাবছিল, আর সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হবে না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে সরকার জঙ্গি হানার ১৩ দিনের মাথায় বিমানহানা চালিয়েছে। ২৫০ জনের বেশি সন্ত্রাসবাদী মারা গিয়েছে।
বিজেপি এর আগে বলেছে, বায়ুসেনার আক্রমণ বা পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘর্ষ নিয়ে কোনওভাবেই রাজনীতি করা হবে না। কিন্তু অমিত এদিন দাবি করেন, আমেরিকা ও ইজরায়েলের পরে ভারতই তৃতীয় দেশ যে নিজেদের সশস্ত্র বাহিনীর ওপরে হামলা প্রতিশোধ নিয়েছে।
সুরাটে এর এক জনসভায় বিজেপি সভাপতি বলেন, আগে আমাদের জওয়ানদের মাথা কেটে নেওয়া হত। তাঁদের নানাভাবে অসম্মান করা হত। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে। আমাদের জওয়ান পাকিস্তানের এফ ১৬ বিমান ধ্বংস করতে গিয়ে সেদেশে বন্দি হয়েছিল। একদিনের মধ্যে সে ফিরে এসেছে। নরেন্দ্র মোদীর ইচ্ছাশক্তির জোরেই এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে।
এর আগে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী, তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ সিং যাদব সরকারের কাছে দাবি করেছেন, বিমান হানা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য পেশ করতে হবে। বিদেশী সংবাদমাধ্যমে বালাকোটে বিমান হানা নিয়ে যা বেরিয়েছে তাতেও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে নানা মহলে। এই প্রসঙ্গে অমিত বলেন, বিরোধীরা যা বিবৃতি দিয়েছেন, সেজন্য তাঁদের লজ্জিত হওয়া উচিত। সেই বিবৃতি পড়ে পাকিস্তান হাসছে। আমি জানি, তাদের মোদীজির মতো ক্ষমতা নেই। তারা যদি সেনাবাহিনীকে সমর্থন করতে নাও পারে, এই সময়ে তাদের চুপ করে থাকা উচিত ছিল।
কংগ্রেস নেতা মনোজ তেওয়ারি এদিন অমিত শাহকে পালটা আক্রমণ করে বলেছেন, তিনি বালাকোটের ঘটনা থেকে রাজনৈতিক ফয়দা তুলতে চাইছেন।