দ্য ওয়াল ব্যুরো : বুধবার প্রবল বৃষ্টি হতে পারে অসম, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, মণিপুর এবং ত্রিপুরায়। উত্তর-পূর্ব ভারতের জন্য এমনই পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। এদিন সকালে ইন্ডিয়ান মেটিরিওলজিক্যাল ডিপার্টমেন্টের বুলেটিনে বলা হয়েছে, উত্তর-পূর্ব ভারত বাদে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী অঞ্চলে প্রবল বৃষ্টি ও বজ্রপাত হতে পারে।
এই পূর্বাভাসের পরে দুশ্চিন্তা বেড়েছে অসম নিয়ে। সেখানে ২৪ টি জেলায় ২৪ লক্ষ ১৯ হাজার মানুষ বন্যার কবলে পড়েছেন। মারা গিয়েছেন ৮৭ জন। এদিন সকালে সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যে ব্রহ্মপুত্রের জল বাড়বে আরও ৩০ সেন্টিমিটার। এছাড়া ধানসিঁড়ি, জিয়া ভরেলি, কোপিলি, গৌরাং, বেকি, কুশিয়ারা এবং সংকোশ নদীর জলও বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে।
অসম স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি জানিয়েছে, ডিব্রুগড়, ধুবড়ি ও গোয়ালপাড়া শহরের কাছে ব্রহ্মপুত্র বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। এছাড়া নিমাটিঘাট এবং তেজপুরেও ব্রহ্মপুত্রের জল বিপদসীমার ওপরে বইছে। রাজ্যের ২৩২৩ টি গ্রাম এখন জলের তলায়। ১ লক্ষ ১০ হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাজুলি, বাকসা, শোনিতপুর এবং উদালগুড়ি জেলায় ব্যাপক ভূমিক্ষয় লক্ষ করা গিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল মঙ্গলবার চিরাং জেলার হাগরামা ব্রিজের কাছে তুলসিঝাড়া গ্রামে যান। সেখানে ভূমিক্ষয় খতিয়ে দেখেন। মঙ্গলবার ন'টি ক্ষতিগ্রস্ত জেলা থেকে ৮৬৯ জন বন্যাদুর্গত মানুষকে উদ্ধার করেছেন ত্রাণকর্মীরা। এদিনই ছ'টি ক্ষতিগ্রস্ত জেলার ৬৬ টি রাস্তা চলে গিয়েছে জলের তলায়। দরং ও বরপেটায় পাঁচটি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৮ টি জেলায় খোলা হয়েছে মোট ৩৯৭ টি রিলিফ ক্যাম্প। সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন ৪৪৪৯৮ জন।
অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল বলেছেন, “একদিকে করোনা সংক্রমণ অন্যদিকে বন্যা। দু’টি চ্যালেঞ্জের সঙ্গে লড়তে হচ্ছে অসমকে। আমরা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। বহু মানুষ ও গবাদি পশুকে বন্যাদুর্গত এলাকা থেকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে আনা হয়েছে।”
গত রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ফোনে সর্বানন্দ সোনওয়ালের সঙ্গে কথা বলেন। রাজ্যে কোভিড সংক্রমণ ও বন্যা পরিস্থিতি, দু’টি বিষয় নিয়েই তিনি জানতে চান। মুখ্যমন্ত্রীর অফিস থেকে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এই বিপদের সময় তিনি অসমের মানুষের পাশে আছেন। রাজ্যের পরিস্থিতির ওপরে কেন্দ্রীয় সরকার নজর রাখছে।