
শেষ আপডেট: 16 September 2019 18:30
ঘটনার সূত্রপাত সিন্ধু পাবলিক স্কুলে। মহম্মদ ইহতিশাম নামে এক ছাত্রের বাবা পুলিশে লিখিত অভিযোগ জানায় যে, স্কুলের প্রিন্সিপাল নোটন লাল তাঁর ছেলেকে আপত্তিকর ভাষায় বকাবকি করেছে। ক্লাসে পড়া না পারার জন্য নাকি ধর্মীয় উস্কানিমূলক মন্তব্য করা হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে নোটন লালের বিরুদ্ধে পাকিস্তান পেনাল কোডের ২৯৫ (সি) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। প্রিন্সিপালকে গ্রেফতার করতে এলেই ফুঁসে ওঠে স্থানীয় সংখ্যালঘুরা। শিক্ষকের পাশে দাঁড়ায় স্কুল কর্তৃপক্ষও। শুরু হয়ে যায় দু’পক্ষের বচসা, হাতাহাতি। এর পরেই স্থানীয় কিছু যুবক স্কুল চত্বরে ঢুকে পড়ে অশান্তি শুরু করে দেয়। অভিযোগ, প্রিন্সিপালকে বেধড়ক মারধর করে দুষ্কৃতীরা। ভেঙেচুরে তছনছ করে দেয় স্কুলের আসবাবপত্র।
গত রবিবার অশান্তি ফের সপ্তমে ওঠে। ঘোটকির স্থানীয় সংখ্যালঘুদের উপর ফের হামলা হয়। বাড়িঘরে ঢুকে ভাঙচুর চালানো হয় বলেও অভিযোগ। সাচো সত্রম দাস মন্দিরেও হামলা চালানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আরও দু’টি মন্দিরে হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। ঘটনার প্রতিবাদে মন্দির চত্বরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন স্থানীয় সংখ্যালঘুরা। তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন এলাকার বহু মুসলিমও। গোটা এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়।
সিন্ধুর মানবাধিকার কমিশনের শীর্ষ আধিকারিক কপিল দেব চাঁর টুইটার অ্যাকাউন্টে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে পাক সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেন। তিনি লেখেন, ‘‘সিন্ধু প্রদেশে হিন্দুরা এমনিতেই সংখ্যালঘু। তার উপর অত্যাচারিত। আমরা হিন্দু হলেও পাকিস্তানি। নিজের দেশেই আমরা সুরক্ষিত নই। মহরমের দিন আমরা কী ভাবে থাকি, একবার ভেবে দেখুন। ঘোটকির এই ঘটনা সব সীমাকে ছাড়িয়ে গেছে।’’
যদিও ঘোটকির গোষ্ঠী সংঘর্ষের প্রসঙ্গে এখনও মুখ খোলেনি পাক মানবাধিকার মন্ত্রী শিরিন মাজ়ারি। সোশ্যাল মিডিয়ায় শিরিনের বিরুদ্ধে তোপ দেগে অনেকেই বলেছেন, কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা রদকে অযৌক্তিক বলেছিলেন শিরিন। আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার কথাও বলেছিলেন। অথচ তাঁর নিজের দেশেই হিন্দুরা আক্রান্ত, অত্যাচারিত। এখন তিনি কী বলবেন!