দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার থেকে দেশ জুড়ে শুরু হয়েছে চৈত্র নবরাত্রির উৎসব। চলবে মঙ্গলবার পর্যন্ত। আর নবরাত্রিতে মাংস বিক্রি? নৈব নৈব চ। উৎসব শুরুর মুখে চোখ রাঙিয়ে গুরুগ্রামের প্রায় ২৫০টি দোকানে ঝাঁপ ফেলে দিল হিন্দু সেনারা। হুমকি দেওয়া হলো আরও কয়েকশো মাংসের দোকানের মালিককে। লাঠি, তলোয়ার, হকি স্টিক নিয়ে জোর জবরদস্তি মাংসের দোকান বন্ধ করার ভিডিও ভাইরালও হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
ভিডিওতে দেখা গেছে, মাংসের দোকানগুলোতে হম্বিতম্বি করছেন স্বঘোষিত হিন্দু সেনারা। প্রত্যেকের হাতে ধারালো অস্ত্র। জোর করে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে দোকানের শাটার। গত শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত গুরুগ্রামের পালাম বিহার, বাদশাহপুর, ওম বিহার-সহ একাধিক জায়গায় প্রায় ২৫০টি মাংসের দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গুরুগ্রামের অনেক দোকানদার এ দিনও তাঁদের মাংসের দোকানের শাটার বন্ধ রেখেছেন।
এক মাংস বিক্রেতার কথায়, ‘‘আমি দোকান খুলে পরিষ্কার করছিলাম। সেই সময় কয়েকটি ছেলে এসে আমাকে দোকান বন্ধ করার জন্য হুমকি দিতে থাকে। রাজি না হলে তারা মারধরও করে। অথচ এই দোকান চালানোর লাইসেন্স আছে আমার।’’
https://twitter.com/ANI/status/1114552045334192128
গুরুগ্রাম শাখার শিবসেনা সভাপতি গৌতম সাইনি বলেছেন, ‘‘প্রতিটি মাংসের দোকানের মালিক, কেএফসি এবং অন্যান্য ফাস্ট ফুডের দোকান মালিকদের নোটিস পাঠিয়েছি আমরা। নবরাত্রির দিনগুলোতে এই দোকান ধাবা, রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতি মঙ্গলবারও দোকান বন্ধ রাখা বাধ্যতামূলক।’’
হিন্দু সেনার গুরুগ্রাম ইউনিটের প্রধান রিতু রাজের কথায়, ‘‘আমাদের সংগঠনের ২০০ জন সদস্য গুরুগ্রামের চারদিকে মাংসের দোকানগুলির উপর নজর রাখছে। নবরাত্রির দিনগুলিতে কোনও দোকানই খুলতে দেওয়া হবে না।’’
দক্ষিণপন্থী হিন্দু সংগঠনের ৪০ জনকে চিহ্নিত করে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ(পশ্চিম) সুমের সিং। তাঁর কথায়, ‘‘সিসিটিভি ফুটেজ দেখে রাকেশ ও প্রমোদ-সহ ৪০ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এদেরকেই শনিবার থেকে মারমুখী ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল। আমরা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছি।’’