
শুভেন্দু অধিকারী। নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 1 May 2025 12:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বড়বাজারের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের (Kolkata Massive Fire) ঘটনায় রাজ্য সরকারকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
গত মঙ্গলবার সন্ধেয় বড়বাজারের একটি ছ'তলা হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন থেকে বাঁচতে লাফ দিয়ে মৃত্যু হয় একজনের। পরে হোটেলের ঘরে দমবন্ধ অবস্থায় আরও ১৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় এদিন রাজ্যকে দায়ী করে শুভেন্দু বলেন, "২০১১ থেকে ২০২৫, ১৫ বছরে এই সরকারের আমলে কলকাতায় আটটি বড় অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হল। অগ্নি নির্বাপণ নিয়ে সরকারের যে কোনও মাথাব্যথা নেই তা একাধিক ঘটনা থেকে স্পষ্ট। এরা কলকাতাকে জতুগৃহে পরিণত করেছে।"
শুভেন্দুর অভিযোগ, "পুলিশ, দমকল থেকে তৃণমূলের নেতা, এরা সকলে টাকা তুলতেই ব্যস্ত। মানুষের জীবন থাকল না গেল, তাতে এদের কিছু যায় আসে না।"
জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধন উপলক্ষে সোমবার থেকে দিঘায় রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার তাঁর কলকাতায় ফেরার কথা। ওই প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, "কলকাতাকে জতুগৃহে পরিণত করে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আস্ত সরকার দিঘায় ছুটি কাটাতে চলে গিয়েছিল। ওরা জলসা নিয়ে ব্যস্ত। দমকলের হাইড্রোলিক ল্যাডারও ছিল না। দ্রুত উদ্ধারকার্য শুরু করলে প্রাণহানির সংখ্যা অনেক কমানো যেত।"
ঘটনার প্রতিবাদে জোড়াসাঁকো থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখানো হবে। আগামী সপ্তাহে কর্পোরেশনেও বড় ধরনের বিক্ষোভ সভা করা হবে বলে জানান বিরোধী দলনেতা।
শুভেন্দুর কথায়, "আমরি, স্টিফেন কোর্ট থেকে বড়বাজার একের পর এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে চলেছে। অথচ অগ্নি নির্বাপণ নিয়ে সরকারের কোনও হেলদোল নেই। কারণ, পুরো সরকারটাই দিঘাতে লাল, নীল জলের ফোয়ারাতে ব্যস্ত ছিল।"
প্রসঙ্গত, বড়বাজারের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ১৪ জনের মৃত্যুর ঘটনায় ইতিমধ্যে সামনে এসেছে হোটেলের একাধিক অনিয়ম। এদিন সকালেই হোটেলের এক মালিক ও ম্যানেজার, যথাক্রমে আকাশ চাওলা ও গৌরব কাপুরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হোটেলের অপর মালিক অতুল চাওলার খোঁজে চলছে তল্লাশি।
ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের জন্য বুধবারই কলকাতার পুর কমিশনারের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের কমিটি গড়েছে রাজ্য। পুরসভার পাশাপাশি কমিটিতে রাখা হয়েছে দমকল এবং পুলিশের আধিকারিকদের। তবে গোটা ঘটনায় সরকারের গাফিলতি রয়েছে বলেই দাবি বিরোধী দলনেতার। তাঁর কথায়, "বড়বাজারের মতো একটা জায়গা, যা কলকাতার ব্যবসার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র, সত্যি সরকারের নজরদারি থাকলে এখানে বছরের পর বছর ধরে একাধিক অগ্নিকাণ্ড ঘটত না।"