কলকাতায় করোনা আতঙ্ক! সংক্রমণ সন্দেহে বেলেঘাটা আইডিতে ভর্তি তিন
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আশঙ্কার মেঘ ঘনাল এবার কলকাতায়!
করোনার সংক্রমণ সন্দেহে শুক্রবার সকালে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে ভর্তি করা হল এক মহিলা-সহ তিনজনকে। সূত্রের খবর, ওই তিনজনকেই আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। তাঁদের রক্তের নমুনা
শেষ আপডেট: 5 March 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আশঙ্কার মেঘ ঘনাল এবার কলকাতায়!
করোনার সংক্রমণ সন্দেহে শুক্রবার সকালে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে ভর্তি করা হল এক মহিলা-সহ তিনজনকে। সূত্রের খবর, ওই তিনজনকেই আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। তাঁদের রক্তের নমুনা পাঠানো হয়েছে পুণের ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতে। সেই রিপোর্ট হাতে আসার পরেই জানা যাবে তিনজনের শরীরে সিওভিডি-১৯ পজিটিভ কিনা।
সিঙ্গাপুর ফেরত কসবার এক মহিলার শরীরে করোনার সংক্রমণ সন্দেহ করা হচ্ছে। সন্দেহের তালিকায় রয়েছেন থাইল্যান্ড থেকে দেশে ফেরা বেলেঘাটার এক যুবক এবং কুয়েত ফেরত টালিগঞ্জের আরও এক যুবক। বেলেঘাটা আইডিতে এর আগেও উহান ফেরত কয়েকজনকে সংক্রমণ সন্দেহে ভর্তি করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে বেলেঘাটার হাসপাতালে ভাইরাসের সংক্রমণ সন্দেহে ভর্তি আট জন।
ভারতে এখনও পর্যন্ত ৩১ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৬ জন ইতালীয় পর্যটক। বিশ্ব জুড়ে এই ভাইরাস ৩ হাজার মানুষের প্রাণ নিয়েছে। সংক্রামিত ৯৫ হাজারেরও বেশি। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন জানিয়েছেন, দেশের ২১টি বিমানবন্দরে চলছে বিশেষ থার্মাল স্ক্রিনিং। নজরদারি চলছে সমুদ্রবন্দরগুলিতেও। বিদেশি পর্যটকদের শরীরে সংক্রমণ সন্দেহ করা হলেই তাঁদের ১৪ দিনের জন্য পাঠানো হবে আইসোলেশন ক্যাম্পে।

সংক্রামিত রোগীদের আলাদা করে রাখার জন্য বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে ১৬টি কেবিন ও দু’টি আইসিইউ প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য ভবনের সঙ্গে কথা হলে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানোর মতো যাবতীয় ওষুধপত্রও মজুত রাখা হয়েছে। অভিজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষ টিম তৈরি রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নোভেল করোনাভাইরাস বা উহান ভাইরাসের সংক্রমণ অনেকটাই সার্স বা ‘সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিন্ড্রোম’-এর মতো। প্রবল জ্বর-সর্দি-কাশি থেকে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন রোগী। সংক্রমণ ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে গোটা শরীরেই। বিকল হতে শুরু করে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ। শেষ পরিণতি মৃত্যু। যার জন্য বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালের প্রতিটি কেবিনে আইসোলেশন ওয়ার্ডের মতো ব্যবস্থা রয়েছে। প্রত্যেক রোগীর জন্য রয়েছে আলাদা অক্সিজেন মাস্ক। বাথরুমও আলাদা। ২৪ ঘণ্টা রোগীদের পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।