চিন-ফেরত চারজনের খোঁজ মিলল, ভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে বেলেঘাটা আইডিতে ভর্তি এক
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাস আক্রান্ত দুই কেরলের বাসিন্দার সঙ্গে একই বিমানে ফিরেছিলেন তাঁরা। সেটা ২৩ জানুয়ারি। তারপর থেকেই চার যাত্রীর কোনও খোঁজ ছিল না। ওই একই বিমানে ছিলেন চিনের নাগরিকরাও। তাই নিখোঁজ যাত্রীরা ভাইরাসে আক্রান্ত কি না সেই সন্
শেষ আপডেট: 2 February 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাস আক্রান্ত দুই কেরলের বাসিন্দার সঙ্গে একই বিমানে ফিরেছিলেন তাঁরা। সেটা ২৩ জানুয়ারি। তারপর থেকেই চার যাত্রীর কোনও খোঁজ ছিল না। ওই একই বিমানে ছিলেন চিনের নাগরিকরাও। তাই নিখোঁজ যাত্রীরা ভাইরাসে আক্রান্ত কি না সেই সন্দেহ আরও জোরদার হয়। নাম, ঠিকানা জোগাড় করে নিখোঁজদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালায় স্বাস্থ্য় দফতর। অবশেষে সেই চার জনের খোঁজ মিলেছে বলেই জানানো হয়েছে স্বাস্থ্য দফতরের তরফ থেকে। তাঁদের মধ্য়ে একজনকে ভর্তি করা হয়েছে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে। বাকি তিনজনও হাসপাতালে ভর্তি হতে রাজি হয়েছে বলে খবর।
কেরলে এখনও পর্যন্ত নোভেল করোনাভাইরাস আক্রান্ত দু'জনের খোঁজ মিলেছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে খবর, সিএনওভি-তে আক্রান্ত চিনের উহান বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী গত ২৩ জানুয়ারি কলকাতা বিমানবন্দর হয়ে কেরলে যান। কুনমিং থেকে যে বিমানে ওই ছাত্রী ফিরেছিলেন, তার ৫০ জন যাত্রীকে পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত হয়। সেই যাত্রী-তালিকায় এ রাজ্যের ছ’জনও ছিলেন। বঙ্গবাসী হলেও সকলেই যে ভারতীয় নাগরিক, সেটা নিশ্চিত করেনি স্বাস্থ্য দফতর। সূত্রের খবর, বিমানবন্দরে নামার পরে এদের মধ্য়ে চার জনের আরও কোনও খোঁজ মেলেনি। এদের খোঁজ পেতে রাজ্য় স্বাস্থ্য দফতর ও নবান্ন অভিবাসন দফতর কোমর কষে নামে। আজ, সোমবার সকালে জেলার বাসিন্দা একজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁকে দ্রুত বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করানো হয়।
রাজ্য়ের স্বাস্থ্য অধিকর্তা অজয় চক্রবর্তী বলেছেন, বাকি তিনজনের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। তাঁরাও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হতে রাজি হয়েছেন।
গোটা বিশ্বে এই ভাইরাস নিয়ে চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই সংক্রমণ রুখতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র তরফে জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও চিনে প্রতি দিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। ইতিমধ্যেই করোনার কবলে চিনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬২। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রবিবার পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ১৭ হাজারের বেশি। এই আবহে চিনের উহান শহরে আটকে পড়া ৩২৪ জন ভারতীয়কে নিয়ে রবিবার সকালে ফেরে এয়ার ইন্ডিয়ার দ্বিতীয় বিমান। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে দেশে ফেরত আনা ওই ভারতীয়দের আগামী ১৪ দিন হরিয়ানার মানেসরের ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিশেষ শিবিরে রাখা হবে।
করোনাভাইরাসের মোকাবিলায় কার্যত তালাবন্ধ চিনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর। ওই শহরে এই সংক্রমণের কেন্দ্র বলে মনে করা হচ্ছে। সংক্রমণ ঠেকাতে গত দু’সপ্তাহের মধ্যে চিনে গিয়েছেন, এমন বিদেশিদের প্রবেশ বন্ধ করেছে আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, ১ জানুয়ারির পরে চিনে গিয়েছেন এমন ভারতীয়ের সর্দি, জ্বর বা শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা গেলে যেন নিকটতম স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শনিবার থেকে ৩২৬টি বিমানের ৫২ হাজারের বেশি যাত্রীকে পরীক্ষানীরিক্ষা করা হয়েছে বিমানবন্দরে। তাঁদের ৯৭ জনের মধ্যে করোনার উপসর্গ দেখা যাওয়ায় আইসেলেশনে পাঠানো হয়েছে।