দ্য ওয়াল ব্যুরো : লখিমপুর-খেরিতে বিজেপির বুথ প্রেসিডেন্ট ছিলেন শুভম মিশ্র (Shubham Mishra)। ৩ অক্টোবর যে গাড়িটি কৃষকদের জমায়েতের মধ্যে ঢুকে যায়, তার পিছনের সিটে বসেছিলেন তিনি। অভিযোগ, গাড়িতে ছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয় মিশ্রের ছেলে আশিস মিশ্র। কৃষকদের ধাক্কা মারার পরে তিনি পালিয়ে যান। উত্তেজিত কৃষকদের হাতে খুন হন তিনজন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন শুভম।
২৯ বছর বয়সী শুভম নিজেও ছিলেন কৃষক। তাঁর স্ত্রী ও একবছরের একটি সন্তান রয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, শুভমের পরিবারের জন্য কি সহানুভূতি জানানো উচিত? নাকি ঘাতক গাড়ির সওয়ার হিসাবে তাঁকেও দোষী সাব্যস্ত করা হবে? একঘরে করে রাখা হবে তাঁর পরিবারকে? সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার শীর্ষস্থানীয় নেতা যোগেন্দ্র যাদব কিছুদিন আগে শুভমের বাড়িতে গিয়েছিলেন। তার 'শাস্তি' হিসাবে তাঁকে মোর্চার কোর কমিটি থেকে একমাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রকাশ্যে ক্ষমাও চাইতে বলা হয়েছে। যাদব স্বীকার করেছেন, মোর্চা নেতৃত্বকে না জানিয়ে শুভমের বাড়িতে গিয়ে তিনি ভুল করেছিলেন। কিন্তু একইসঙ্গে তিনি বলেছেন, "শোকের কোনও দলীয় পরিচয় হয় না"। যে কৃষকরা গাড়ি চাপা পড়ে মরেছেন, তাঁদের একজনের বাড়িতে গিয়েছিলেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী। সেই ছবি বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে দেখানো হয়েছিল। সাংবাদিক রমন কাশ্যপের বাড়িতেও গিয়েছিলেন প্রিয়ঙ্কা। তিনিও ঘটনার দিনই মারা যান। কিন্তু শুভমের বাড়িতে যাননি। প্রিয়ঙ্কা বলেন, পুলিশ তাঁকে জানিয়েছিল, শুভমের পরিবার তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চায় না। যদিও শুভমের পরিবার বলেছে, পুলিশের সঙ্গে তাদের কোনও কথা হয়নি।
২০ বছর আগে, গুজরাত দাঙ্গার পরে ১৮ জন সাংসদকে নিয়ে ওই রাজ্যে গিয়েছিলেন কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী। তিনি কিন্তু সবরমতী এক্সপ্রেসে পুড়ে মৃতদের বাড়িতে যাননি। পর্যবেক্ষকদের মতে, তাঁদের বাড়িতে গেলে সনিয়া জানতে পারতেন, মৃতরা সকলেই বিশ্ব হিন্দু পরিষদের উগ্র সমর্থক নয়। তাঁদের মধ্যে সাধারণ হিন্দুরাও ছিলেন। অনেক অবসরপ্রাপ্ত বৃদ্ধ বা মহিলা সস্তায় তীর্থভ্রমণ করার জন্য বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সঙ্গে অযোধ্যায় গিয়েছিলেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, গুজরাতের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও সবরমতী এক্সপ্রেসে মৃতদের বাড়িতে যাননি।
গুজরাত দাঙ্গার এক দশক বাদে সাংবাদিকরা লক্ষ করেন, সবরমতী এক্সপ্রেসে মৃতদের কথা ভুলে গিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদও। ১৯৯২-'৯৩ সালে দাঙ্গার সময় মুম্বইয়ের রাধাবাই চাওলে ছ'জন হিন্দুকে পুড়িয়ে মারা হয়। তারপর অনেক হিন্দু ওই এলাকা ছেড়ে চলে এসেছিলেন। তাঁদের বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থা করেছিলেন কংগ্রেসের তৎকালীন সাংসদ সুনীল দত্ত। শিবসেনা নেতারা প্রায়ই তাঁদের ভাষণে রাধাবাই চাওলের ঘটনার কথা উল্লেখ করতেন। কিন্তু তাঁরা কেউ খোঁজ করেননি, ওই অঞ্চলে যাঁরা বাড়িছাড়া হয়েছেন, সেই হিন্দুরা কেমন আছেন।