
শেষ আপডেট: 1 July 2023 06:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি নিয়ে আপত্তি উঠেছে বিজেপির শরিক দলগুলির থেকে। এমনকী উত্তর-পূর্ব ভারতের বিজেপির বহু নেতাও মনে করছেন, ইউসিসি দলের বিপদের কারণ হবে দেশের ওই প্রান্তে।
মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী তথা ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রধান কোনরাড সাংমার সাফ কথা ইউসিসি-কে সমর্থনের প্রশ্নই ওঠে না। এই বিধি ভারতের ঐক্য সংহতির পরিপন্থী। তাঁর কথায়, বৈচিত্রই ভারতের ঐক্য।
প্রসঙ্গত মেঘালয়ে বিজেপি সাংমার সরকারের শরিক। চার মাস আগের বিধানসভা নির্বাচনে দুই দল পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়াই করলেও সরকার গড়েছে এক সঙ্গে। এমনকী সাংমার শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা।
সাংমা শুধু মেঘালয় নয়, গোটা উত্তরপূর্বের হয়েই ইউসিসির বিরুদ্ধে ব্যাট ধরেছেন। তিনি বলেন, উত্তরপূর্বের মানুষের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অধিকার রক্ষা করে ইউসিসি হলে এক কথা। সেগুলি গুরুত্ব না পেলে আমরা বিরোধিতা করব।
নাগাল্যান্ড, মণিপুর এবং মিজোরামেও বিজেপি ইউসিসি নিয়ে বিরোধের মুখে পড়েছে। নাগাল্যান্ডের দ্য ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্র্যাটিক প্রোগ্রেসিভ পার্টি এবং নাগা পিপলস ফ্রন্টও আপত্তি তুলেছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে। এই দুই দল অনেক দিন ধরে এনডিএ-র শরিক। আপত্তি আছে মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্টের। সমতলের দলগুলির মধ্যে ঝাড়খণ্ডের আজসুও আপত্তি তুলেছে।

এগুলি যদিও খুবই ছোট দল, কিন্তু উত্তর-পূর্বে ক্ষুদ্র পার্টিগুলির হাত ধরেই বিজেপি সাতটি রাজ্যে ক্ষমতায় আছে। স্বভাবতই ওই সব রাজ্যের পদ্ম শিবির থেকেও আপত্তি উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে ৪ থেকে ৭ জুলাই দিল্লিতে বিজেপির সাংগঠনিক বৈঠকের ফাঁকে উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণের রাজ্যগুলির নেতাদের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলবেন বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা। শরিক নেতাদের সঙ্গেও নাড্ডাকেই কথা চালাতে বলা হয়েছে। ৪ থেকে ৭ দিল্লিতে লোকসভা ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে ম্যারাথন বৈঠকের আয়োজন করেছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
পাঞ্জাবে অকালি দল কৃষি আইনের ইস্যুতে দু’ বছর আগে বিজেপির সঙ্গ ছেড়ে গেলেও ফের দুই দলের ভাব-ভালোবাসা বেড়েছে। কিন্তু অকালি দলও জানিয়ে দিয়েছে তারা ইউসিসি সমর্থন করবে না। বিজেপির বন্ধুস্থানীয় দল অন্ধ্রপ্রদেশের জগনমোহন রেড্ডির পার্টির ওয়াইএসআর কংগ্রেসও অভিন্ন দেওয়ানি বিধি সংক্রান্ত বিলের বিরোধী। তারাও সমর্থন করবে না বলে জানিয়েছে। অন্যদিকে, বিজু জনতা দল সমর্থন করবে বলে আগেই অবস্থান স্পষ্ট করেছিল।
কিন্তু বিজেপির সবচেয়ে চিন্তা উত্তর-পূর্ব ভারত এবং দক্ষিণের রাজ্যগুলি নিয়ে। যেমন কেরলে মুসলিমদের পাশাপাশি খ্রিস্টান সম্প্রদায়ও ইউসিসির বিরোধিতায় সরব। ওই রাজ্যে খ্রিস্টানদের পাশে টানার চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি যা ইউসিসির জেরে ধাক্কা খেতে পারে।
উত্তর-পূর্বে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা বিপুল। সেই সঙ্গে আদিবাসীদের নানা ধর্মীয় ও সামাজিক রীতি রয়েছে যেগুলি আইন গ্রাহ্য হিসাবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এমনকী কিছু আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে বহু বিবাহ সামাজিকভাবে স্বীকৃত। ইউসিসি চালু হলে সেই অধিকার থাকবে না।
আদিবাসীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে আরএসএস। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু আসলে আরএসএসের গোড়ার কর্মসূচি। স্বভাবতই বিজেপির পৃষ্ঠপোষক এই সংগঠন আদিবাসীদের বিষয়ে বিকল্প কোনও রাস্তা ইউসিসি-তে যুক্ত রাখবে বলে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের ধারণা।
কংগ্রেসের অন্দরে ইউসিসি’র পক্ষে সওয়াল, ‘জয় শ্রীরাম’ বলে পোস্ট হিমাচলের মন্ত্রীর