
শেষ আপডেট: 16 April 2023 04:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গ্যাংস্টার আতিক আহমেদ (Atiq Ahmed) ও তাঁর ভাই আশরাফকে পুলিশি ঘেরাটোপে গুলি করে খুনের পর স্বাভাবিকভাবেই বেকায়দায় উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন। বিরোধী নেতাদের (opposition leaders) তোপের মুখে পড়েছে যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath) সরকার। সে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব যেমন বলেছেন, প্রকাশ্যে এই দু'জনকে হত্যা দেখিয়ে দিল যে উত্তরপ্রদেশ এখনও অপরাধের শীর্ষে। অন্যদিকে এআইএমআইএম-এর প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি বলেন, এটি আসলে ঠান্ডা মাথায় খুন করা হল।
অখিলেশের টুইট, 'উত্তরপ্রদেশে অপরাধের সংখ্যা দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। অপরাধীদের আচরণ সব সীমা অতিক্রম করে ফেলেছে। পুলিশি ঘেরাটোপের মধ্যেও যেভাবে দু'জন জেলবন্দিকে প্রকাশ্যে গুলি করে খুন করা হল, তাতে জনসাধারণের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন থাকছে। দেখে মনে হচ্ছে, অনেকেই ইচ্ছাকৃতভাবে এমন ভয়ের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছেন।'
উত্তরপ্রদেশের আর এক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিএসপি নেত্রী মায়াবতীও আতিক হত্যার ঘটনায় যোগী সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। তাঁর কথায়, যোগী আদিত্যনাথ উত্তরপ্রদেশকে ‘এনকাউন্টার রাজ্য’ বানিয়ে ফেলছে। ভুয়ো এনকাইউন্টার বন্ধে বিএসপি নেত্রী সুুপ্রিম কোর্টকে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করার আর্জি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে ওয়েইসি এই ঘটনা নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে রীতিমতো তোপ দেগেছেন উত্তরপ্রদেশ প্রশাসনের দিকে। তিনি দাবি করেছেন, সুপ্রিম কোর্টের অধীনে এই ঘটনার তদন্ত হওয়া উচিত। কারণ আতিক একজন প্রাক্তন সাংসদ ছিলেন। এমনকী তিনি আগেও পুলিশ কাস্টডিতে মৃত্যুর আশঙ্কা করেছিলেন। একইসঙ্গে ওই তদন্তকারী দলে উত্তরপ্রদেশের কোনও অফিসার রাখা যাবে না বলেও দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ওয়েইসি বলেন, 'এটি একটি ঠান্ডা মাথার খুন। এই ঘটনার জেরে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে। এরপরও কি দেশের সংবিধান ও আইনশৃঙ্খলার প্রতি জনগণের কোনও আস্থা থাকবে?'
তবে এতকিছুর মধ্যেও বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয় যে টুইটটি করেছেন, তা যেন অপরাধকেই আরও সমর্থন করছে। তিনি শনিবার রাতেই টুইটারে লেখেন, 'ভগবান শ্রীকৃষ্ণ গীতায় বলেছেন, যখন রাক্ষসদের নিধন হয়, তখন পৃথিবীর ভার কমে যায়।' এই টুইট দেখার পর কারওই বুঝে নিতে সমস্যা হয়নি যে কৈলাসের ইঙ্গিত কার দিকে ছিল।
সাংবাদিক সেজে এসেছিল আততায়ীরা, আতিক হত্যাকাণ্ডে দাবি উত্তরপ্রদেশ পুলিশের