
শেষ আপডেট: 17 April 2023 09:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাতদিনও হয়নি জাতীয় দলের মর্যাদা হারিয়েছে শরদ পাওয়ারের (Sharad Pawar) পার্টি (party) এনসিপি। এবার নিজের রাজ্য মহারাষ্ট্রেই দু-টুকরো হওয়ার মুখে সেই দল। আর বিবাদ খোদ তাঁর পরিবাবে।
রাজ্যের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী তথা শরদের ভাইপো অজিত শিবসেনার (উদ্ধব) গোষ্ঠী ছেড়ে বিজেপি ও একনাথ শিন্ডের শিবসেনা জোটের সঙ্গে হাত মেলাতে চান। এ নিয়ে কাকা-ভাইপোর বিরোধ এতদূর গড়িয়েছে যে পাওয়ার শরিক নেতা উদ্বব ঠাকরে ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সাংসদ সঞ্জয় রাউতকে ডেকে বলে দিয়েছেন, এনসিপির কিছু বিধায়ক দলবদল করে বিজেপিতে যেতে পারে। কিন্তু তিনি কিছুতেই বিজেপির হাত ধরবেন না।
তাৎপর্যপূর্ণ হল দল ভাঙানোর ‘অপারেশন লোটাস’ ('Operation Lotus') এমন সময় শুরু হয়েছে যখন সদ্য দিল্লিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে ও রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করে মুম্বই ফিরেছেন পাওয়ার। দিল্লির বৈঠকে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, বি‘রোধী ঐক্য তৈরির উদ্যোগে তিনি পুরোপুরি আছেন। দেশবাসী পরিবর্তন চাইছে। তিনি পরিবর্তন ভাবনার সঙ্গেই আছেন।
পাওয়ারের কংগ্রেসের হাত ধরার খবর জানাজানি হতেই এনসিপি ভাঙাতে অজিতের তৎপরতা বেড়ে যায়। শারদ পাওয়ার ঘনিষ্ঠমহলে বলেছেন, তিনি দল অটুট রাখতে বদ্ধপরিকর। কিন্তু কেউ যদি বিজেপিতে যেতে চায়, আটকে রাখার উপায় নেই। প্রসঙ্গত, মহারাষ্ট্রে এনসিপি-র ৫৩জন বিধায়ক আছেন। তাঁদের কতজন অজিতের সঙ্গে আছেন এখনও স্পষ্ট নয়।
পাওয়ারের পরিবারের অশান্তির বিষয়টি প্রকাশ্যে এনেছেন সঞ্জয় রাউতই। শিবসেনার মুখপাত্র সামনায় প্রকাশিত সাপ্তাহিক কলমে তুলে ধরেছেন এনসিপিতে বিজেপির অপারেশন লোটাসের ছক। তিনি জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে পাওয়ার তাঁকে ও উদ্ধব ঠাকরেকে বাড়িতে ডেকেছিলেন। সেখানেই প্রবীণ নেতা দুঃখ করে বলেছেন তাঁর দল ভেঙে যাওয়া অসম্ভব নয়। ভাইপো অজিতকে কিছুতেই মানানো যাচ্ছে না। অজিতের বক্তব্য, মানুষের জন্য কাজ করতে হলে সরকারি জোটের সঙ্গে থাকা জরুরি।
পাওয়ার তাঁদের আরও বলেন, ইডি, সিবিআই, পুলিশ, আয়কর লাগাতার এনসিপি বিধায়কদের ভয় দেখাচ্ছে মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার। বিজেপির সঙ্গে হাত মেলাতে জোর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে।
এবারই নতুন নয়, ২০১৯-এ এনসিপিকে ভাঙিয়ে সরকার গড়ে ফেলেছিল বিজেপি। ভোরের আলো ফোটার আগে রাজভবনে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দ্বিতীয়বার শপথ নেন বিজেপির দেবেন্দ্র ফড়ণবিশ এবং এনসিপি নেতা অজিত। তাঁকে করা হয় উপমুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু শরদ পাওয়ার বেঁকে বসায় দু’দিনের মাথায় ইস্তফা দিয়ে দলে ফিরে আসেন অজিত। উদ্ধব ঠাকরের মন্ত্রিসভায় তাঁকে উপমুখ্যমন্ত্রী করে অর্থ দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
যদিও গোড়া থেকেই অজিতের মন পড়ে আছে বিজেপির দিকে। হালে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। রাহুল গান্ধীর মানহানির মামলায় সাজাকেও সমর্থন করেন এই এনসিপি নেতা। বিজেপির সুরে তাল মিলিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ওবিসি। রাহুল ওবিসিদের অপমান করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর ডিগ্রি বিতর্ক নিয়ে আপের সমালোচনায় মুখর হন অজিত।
পাশাপাশি একনাথ শিন্ডে, ফড়ণবিশদের সঙ্গে তাঁর মাখামাখির সম্পর্কও গোপন থাকেনি। একাধিক সরকারি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ও উপমুখ্যমন্ত্রীর পাশে হাসি মুখে অজিতকে দেখা গিয়েছে। মাস কয়েক আগে নাগপুরে মহারাষ্ট্র বিধানসভার অধিবেশন চলাকালে ঘনিষ্ঠ বন্ধুর অসুস্থতার কারণে অজিতের দ্রুত মুম্বই ফেরার দরকার ছিল। খবর পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী শিন্ডে রাজ্য সরকারের বিমানে অজিতকে মুম্বই পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। ফলে শিন্ডে ও ফড়ণবিশ বাড়তি একরাত নাগপুরে থেকে যান।
জীবনের প্রথম চাকরি বাম আমলে, স্ত্রী-শ্যালক প্রাথমিকে ঢুকেছিলেন এই জমানায়