
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 25 February 2025 19:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরবঙ্গে খুশির আলো। মঙ্গলবার থেকে নতুন করে পথ চলা শুরু করল ৬টি চা বাগান। এর কোনওটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, কোনওটি আবার নাম কা ওয়াস্তে খোলা থাকলেও কর্মীরা বেতন পাচ্ছিলেন না দীর্ঘদিন ধরে। মঙ্গলবার থেকে এমন ৬টি চা বাগানে নতুন করে কাজ শুরু হল। শীঘ্রই চা বাগানের ২৬ হাজার শ্রমিকের হাতে পাট্টা তুলে দেওয়া হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
এদিন নবান্নের বৈঠক থেকে একথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ৩ বছরের জন্য ওই ৬টি চা বাগানকে লিজ দেওয়া হল। চা উৎপাদন থেকে কর্মীদের সঠিক সময়ে বেতন, পিএফ-সহ অন্যান্য সুবিধার ব্যবস্থা ওরা করলে ভবিষ্যতে চুক্তির মেয়াদ ৩০ বছর করা হবে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটিও গড়ে দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, টি প্ল্যান্টের জমির সঙ্গে কোনও আপস নয়। চা বাগানের জমি কাউকে ফ্রি হোল্ড দেওয়ার নিয়ম নেই। লিজে থাকে। চা বাগানের আইন একই রয়েছে। আমরা সেটা মেনেই চলছি। তবু উত্তরবঙ্গে চা শ্রমিকদের একাংশের সঙ্গে কিছু লোক নানা ধরনের গুজব ছড়াচ্ছেন। এর পিছনে কিছু ভূতুড়ে রাজনৈতিক দল রয়েছে।
এ ব্যাপারে বিভ্রান্তি কাটাতে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যাও দিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। তিনি বলেন, আইনে বলা আছে যেখানে চা জন্মায় সেটা ক্ষতি করা যাবে না, কিন্তু যেখানে চা চাষ হচ্ছে না বা জমি ব্যবহার না হয়ে পড়ে রয়েছে সেখানকার ১৫ শতাংশ জমিতে টুরিজিম প্রজেক্টের জন্য অনুমোদন দেওয়া যেতে পারে। সেখানে হোটেল-সহ পর্যটনের বিভিন্ন পরিকাঠামোগত উন্নয়ন করা যেতে পারে। তবে এসব ক্ষেত্রে নিয়োগের ৮০ শতাংশ স্থানীয়দের মধ্যে থেকেই করতে হবে।
একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, অভাবী বিক্রি ঠেকাতে আলুচাষিদের কাছ থেকে ৯০০ টাকা প্রতি কুইন্ট্যাল আলু ক্রয় করা হবে। সম্প্রতি রাজ্যে বৃষ্টি পরিস্থিতর মধ্যেই ডিভিসি জল ছাড়ে। তাতে দক্ষিণবঙ্গের একাংশে আলু চাষে ব্যাপক ক্ষতি হয়। ক্ষতি ঠেকাতে সরকারিভাবে চাষিদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি সুফল বাংলা স্টলের মাধ্যমে তাঁদের আলুও ক্রয় করেছে রাজ্য।