দ্য ওয়াল ব্যুরো : পুলওয়ামায় জঙ্গি হানার পরেই ভারত স্থির করে যোগ্য জবাব দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সেনাবাহিনীকে ফ্রি হ্যান্ড দেন। সেইমতো বদলা নেওয়ার পরিকল্পনা করে সেনা। ১৮ ফেব্রুয়ারি মোদী সেই পরিকল্পনা অনুমোদন করেন। একটি সূত্রে খবর, মাত্র সাতজন জানতেন, পাকিস্তানে বিমান হানা হতে চলেছে। তাঁরা হলেন, মোদী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, পদাতিক, বায়ু ও নৌবাহিনীর তিন প্রধান এবং র ও ইনটেলিজেন্স ব্যুরোর দুই প্রধান।
মঙ্গলবার ভোররাত তিনটে বেজে ৪০ মিনিট থেকে তিনটে বেজে ৫৩ মিনিটের মধ্যে ভারতীয় বায়ুসেনার টাইগার স্কোয়াড্রনের চারটি মিরাজ ২০০০ যুদ্ধবিমান এলওসি পেরিয়ে পাকিস্তানে ঢুকে যায়। পাকিস্তানের মানসেহরায় বালাকোটে মারকাজ সইদ আহমেদ শাহিদ প্রশিক্ষণ শিবিরে বোমা ফেলে। পুরো শিবির গুঁড়িয়ে যায়।
পাকিস্তান প্রথমে বলে, ভারতের আক্রমণ ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু ভারতের যুদ্ধবিমান যে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা লঙ্ঘন করে পাকিস্তানে ঢুকে পড়েছিল তারা স্বীকার করে।
একটি সূত্রে জানা যায়, পুলওয়ামায় জঙ্গি হানার পরেই সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকে র-কে বলা হয়, পাকিস্তানের কোথায় আক্রমণ করা যেতে পারে তা স্থির করা হোক। কয়েকদিন বাদে র জানায়, পাকিস্তানের ছ’টি টার্গেটে হানা দেওয়া যেতে পারে। তার মধ্যে ছিল বালাকোট। সেখানে রয়েছে জঙ্গি জইশ ই মহম্মদের সবচেয়ে পুরানো ট্রেনিং ক্যাম্প। তা চালায় ইউসুফ আজহার। সে জইশ প্রধান মৌলানা মাসুদ আজহারের শ্যালক।
কয়েকটি কারণে বালাকোটকে টার্গেট হিসাবে বেছে নেওয়া হয়। প্রথমত, সেখানে হানা দিলে জইশের প্রতি নির্ভুল বার্তা দেওয়া যাবে। পুলওয়ামা হানার জন্য ওই সংগঠনটিই দায়ী। দ্বিতীয়ত, বালাকোটে হানা দিলে শত্রুর ক্ষয়ক্ষতি হবে বেশি। তৃতীয়ত বালাকোটে আক্রমণ করলে নিরীহ মানুষের কোনও ক্ষয়ক্ষতি হবে না। বিমান হানায় যদি নিরীহ মানুষের ক্ষতি হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার মুখে পড়বে দিল্লি। সেদিক থেকে বালাকোটে আক্রমণ চালানো নিরাপদ। চতুর্থত, ভারত দেখাতে চেয়েছিল, তারা পুলওয়ামা হানার প্রতিশোধ নিতেই যে আক্রমণ চালাচ্ছে তা নয়। বরং আগামী দিনে যাতে আত্মঘাতী হামলা না হয়, সেজন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসাবে বালাকোটে বোমা ফেলেছে। বালাকোটে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হত। সেই শিবির ধ্বংস করায় আগামী দিনে জঙ্গি হানার সম্ভাবনা হ্রাস পেল।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে সীমান্তে বিভিন্ন বিমানঘাঁটি থেকে ভারতীয় বায়ুসেনার বিমানগুলি উড়তে থাকে। পাকিস্তানিদের বিভ্রান্ত করার জন্য আসল অপারেশনের কয়েকদিন আগে থেকে বিমানগুলি ওইভাবে চক্কর দিচ্ছিল। ২৫ তারিখে গোয়েন্দারা জানান, বালাকোটে বিপুল সংখ্যক জঙ্গি ট্রেনিং নিতে এসেছে। তখনই বায়ুসেনা স্থির করে, আঘাত হানতে হবে দ্রুত।