দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত কয়েক মাসে এনআরসি বিরোধী আন্দোলনে সামনের সারিতে আছে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও জেএনইউ। দু’টি বিশ্ববিদ্যালয়েই পুলিশই অভিযান নিয়ে সমালোচনা হয়েছে নানা মহলে। বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সঞ্জীব বালিয়ান বললেন, জামিয়া আর জেএনইউয়ের ছাত্রছাত্রীদের জন্য ‘সঠিক দাওয়াই’ আমি জানি। দু’টি বিশ্ববিদ্যালয়ে পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের ছেলেদের জন্য ১০ শতাংশ সিট রিজার্ভ করে দাও। আর কিছু করার দরকার নেই।
মেরঠে জনসভায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, আমি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংজিকে বলব, যারা জামিয়া ও জেএনইউতে দেশবিরোধী স্লোগান দিচ্ছে, তাদের জন্য একটাই ওষুধ আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের জন্য ১০ শতাংশ কোটা রাখ। তাহলে সব ঠিক হয়ে যাবে। আর কিছুই লাগবে না।
পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে অপরাধের হার যথেষ্ট বেশি। পর্যবেক্ষকদের মতে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গুন্ডা দিয়ে বিক্ষোভকারীদের ঠান্ডা করার কথা বলেছেন। ইতিমধ্যে গুন্ডারা জেএনইউতে হামলা করেছে। তাদের মারে আহত হয়েছেন ছাত্র সংসদের সভানেত্রী ঐশী ঘোষ সহ অনেকে।
সঞ্জীব বালিয়ান নরেন্দ্র মোদী সরকারের প্রথম দফায় প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। বর্তমানে তিনি পশুপালন, মৎস্যচাষ ও গোপালন দফতরের প্রতিমন্ত্রী। অতীতে একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য করে খবরের শিরোনামে এসেছেন সঞ্জীব। সম্প্রতি নাগরিকত্ব আইন বিরোধী আন্দোলন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘মাদ্রাসার সন্তানরা’ অশান্তি সৃষ্টি করছে।
২০১৩ সালে মুজফফরনগরে দাঙ্গায় সঞ্জীব ছিলেন অন্যতম অভিযুক্ত। দাঙ্গায় ৬০ জন নিহত হন। হাজার হাজার মানুষকে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে হয়। অভিযোগ, সঞ্জীবের উস্কানিমূলক ভাষণের পরে সেখানে দাঙ্গা শুরু হয়। তিনি অবশ্য দাঙ্গায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন।
অপরাধমূলক কার্যকলাপের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সঞ্জীব ২০১৪ ও ২০১৯ সালে নির্বাচিত হয়েছেন।