দ্য ওয়াল নিউজ ব্যুরো: এবার সত্যিই মোবাইল-ফার্স্ট আমাদের দেশ ।
এমনটাই জানাচ্ছে বিশ্লেষক সংস্থা ক্যামস্কোরের করা এক আন্তর্জাতিক সমীক্ষা। জানা যাচ্ছে ভারতীয়রা, ইন্টারনেটে অতিবাহিত করা সময় বা ‘ডিজিটাল টাইম’ বা ‘অনলাইন টাইম’-এর প্রায় ৯০ শতাংশই অতিবাহিত করেন মোবাইলের মাধ্যমে।
কেউ কেউ অবশ্য বলছেন এ এমন নতুন কী কথা। সারাক্ষণই তো হাতে মোবাইল নিয়ে ঘুরছে সবাই। ঘাড় নীচু। চোখ দুটো মোবাইলের স্ক্রিনে স্থির। রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময়েই হোক। বা বাসে মেট্রোতে। অফিসে বা বাড়িতেও দৃশ্যটা খুব আলাদা কিছু নয়।
প্রাচীনপন্থীরা যতই রাগ করুন। কুছ পরোয়া নেহি, জেনারেশন ওয়াই এর। মোবাইলের মাধ্যমেই তারা জেনে যাচ্ছে গোটা বিশ্বের হালহকিকৎ।
অবশ্য বাদ নেই বয়স্করাও। প্রৌঢ়া গৃহবধু হোক বা অবসরপ্রাপ্ত চাকুরে। তাদেরও সময় কাটছে সেই মোবাইলেই। হোয়াটস্যাপ বা ফেসবুক মেসেঞ্জারে বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে। কখনও বা ইউটিউবে দেখে নিচ্ছেন উত্তম সুচিত্রার সাদা কালো ছায়াছবি।
ছবিটা হয়তো জানাই ছিল। এবার পাওয়া গেল পরিসংখ্যানই। ২০১৭ সালে, ইন্টারনেটে কাটানো ‘অনলাইন টাইম’-এর ৮৯ শতাংশই ভারতীয়রা ব্যায় করেছেন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৩ টা দেশের মধ্যে এই ক্ষেত্রে প্রথম স্থান ভারতেরই। ভারতের পরেই এই তালিকায় আছে ইন্দোনেশিয়া (৮৭%), মেক্সিকো (৮০%) আর আর্জেন্টিনা (৭৭%)। সারা বিশ্বের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে এই পরিসংখ্যান মাত্র ৩০ শতাংশ।
জানা যাচ্ছে, ২০১৭ সালে একজন ভারতীয় প্রায় গড়ে প্রায় ৩০০০ মিনিট বা ৫০ ঘন্টা ইন্টারনেট অ্যাক্সেস করেছেন ফোনের মাধ্যমে। আর ডেস্কটপ দিয়ে মাত্র ১২০০ মিনিট বা ২০ ঘন্টার মতো।
ইন্টারনেটে কাটানো সময়ের ১৫ শতাংশই ভারতীয়রা ব্যয় করছেন গান বা ভিডিওর মতো মাল্টিমিডিয়া পরিষেবার জন্য।
তারপরেই আছে হোয়াটস্যাপ, মেসেঞ্জারের মতো ইনসট্যান্ট চ্যাট করার অ্যাপগুলো। জানা যাচ্ছে এর জন্য ভারতীয়রা অতিবাহিত করেন মোট ‘ডিজিটাল টাইম’ এর ১৩ শতাংশ। মোটেও পিছিয়ে নেই ফেসবুক, টুইটারের মতো সামাজিক মাধ্যমগুলোও। ডিজিটাল টাইম-এ তাঁদের ভাগ ১০ শতাংশ।
ইনস্ট্যান্ট মেসেঞ্জারের মধ্যে ভারতে সব থেকে এগিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ। ইন্সট্যান্ট মেসেঞ্জারে কাটানো সময়ের ৯৮ শতাংশই ভারতীয়রা অতিবাহিত করেন এই অ্যাপে।
এই সমীক্ষায় পাওয়া গিয়েছে কিছু মজার পরিসংখ্যানও। যেমন জব সার্চের জন্য আমাদের চাকরিপ্রার্থীদের ভরসা কিন্তু হাতে ধরা মুঠোফোনটাই। ভারতে জব সার্চের প্রায় পুরোটাই হয় মোবাইলের মাধ্যমে।
আবার স্বাস্থ্য বীমা বা হাসপাতাল খোঁজার জন্য কিন্তু ভারতীয়দের ভরসা সেই ডেস্কটপ।
ভারতে ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ বহু মানুষের আজও সাধ্যাতীত। কিন্তু ক্রমশ দাম কমেছে স্মার্টফোনের। দাম কমেছে ডেটা প্যাক ও অন্যান্য মোবাইল পরিষেবারও। ফলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে গোটা দুনিয়ার নাগাল পেতে আমভারতীয় তাই ব্যবহার করে হাতের মোবাইলটিকেই।
তাছাড়া ডেক্সটপের বদলে সব সময়েই হাতের নাগালে থাকা মোবাইল ফোন ব্যবহার করার সুবিধেও বেশি। যাতায়াতের পথেও মোবাইলের মাধ্যমে সহজেই ব্যবহার করে নেওয়া যায় মোবাইলের পরিষেবা।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ এর ফেব্রুয়ারী মাসে মোবাইল পরিষেবা সংস্থা রিলায়েন্স জিও-র গ্রাহক সংখ্যা ১৩ কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এই ২০১৭ সালেই, আগের বছরের থেকে ভারতে প্রায় ১২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে ই-কমার্স সাইট অ্যামাজনের ব্যবসা। ইউটিউব, জিমেইল, গুগল প্লে এবং গুগল সার্চ মতো অ্যাপগুলোও খুব জনপ্রিয় ভারতীয়দের মধ্যে।
ওয়াকিবহাল মহল বলছেন, ডিজিটাল ইন্ডিয়ার সব চাবিকাঠি কিন্তু লুকিয়ে আছে মুঠোয় ধরা মোবাইল ফোনটিতেই।