দ্য ওয়াল ব্যুরো: সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বরাবর বলে এসেছেন, গ্রেগ চ্যাপেল নির্দিষ্ট কাউকে ছোট করতে অন্যকে বড় করে দেখাতে ভালবাসেন। সেটি আবারও প্রমাণ হল। ভারতের এক বহুজাতিক ক্রিকেট ওয়েবসাইটের হয়ে লিখতে গিয়ে তিনি বলেছেন, এমএস ধোনির মতো ধুরন্ধর ক্রিকেট মস্তিষ্ক আমি দেখিনি। ধোনি খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, সেই কথাও জানিয়েছেন গুরু গ্রেগ।
ভারতীয় দলের যখন গ্রেগ কোচ ছিলেন, সেইসময় ধোনিও অধিনায়ক হিসেবে উঠে আসছেন। ধোনির উত্থান গ্রেগের হাত ধরেই হয়েছে। কেননা সেইসময় রাহুল দ্রাবিড় অধিনায়ক হিসেবে ব্যর্থ হয়েছিলেন। ধোনির উত্তরণ দেখেছেন এই নামী প্রাক্তন অস্ট্রেলীয়।
২০০৫ থেকে ২০০৭ সাল, দু’বছর ভারতের কোচ ছিলেন তিনি। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের হাত ধরে ভারতীয় ক্রিকেটে পা দিলেও তাঁকেই ছেঁটে ফেলার জঘন্য চক্রান্ত করেছিলেন। গ্রেগের কোচিংয়েই ধোনি জমানা শুরু হয়েছিল। তাঁর নেতৃত্বেই ২০০৭ সাল ও ২০১১ সালে টি-টোয়েন্টি ও ওয়ান ডে বিশ্বকাপ জিতেছিল ভারত।
ধোনি সম্পর্কে চ্যাপেল বলেছেন, ‘‘ভারতে আমার কোচিংয়ে যারা খেলেছিল, ধোনি তাদের অন্যতম। একজন ব্যাটারকে তার প্রতিভা কতটা শানাতে হয়, নিজস্ব স্টাইল তৈরির জন্য কতটা শিখতে হয়, ধোনি তার সঠিক উদাহরণ।’’
এমনকি ধোনি যে সময়ে দলের দায়িত্ব নেন, তখন দলে তাঁর চেয়ে অনেক সিনিয়ররা ছিল, ধোনি তাঁদের সুন্দর করে ব্যবহার করে নিজের মুন্সিয়ানার প্রমাণ দেন। সেই কথাও বলেছেন বিতর্কিত কোচ। যিনি নিজের কথা লিখতে গিয়ে সৌরভের কথা একবারও বলেননি। অথচ তাঁকে ভারতে আনার ক্ষেত্রে সৌরভই নাম সুপারিশ করেছিলেন বোর্ডের কাছে। আর কোচ হয়ে এসে সেই সৌরভকেই ছেঁটে ফেলার কাজ শুরু করেছিলেন।
শুধু তাই নয়, ধোনির এতই প্রশংসা করেছেন, তিনি বলেছেন, ম্যাচে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, নিজের দক্ষতা বাড়ানো, নানা কৌশল আগে থেকে ঠিক করা, সবদিক থেকে ধোনি প্রমাণ করেছে ওই সেরা ও সফল অধিনায়ক, বলেছেন গ্রেগ।
ওই নামী অস্ট্রেলীয় আরও লিখেছেন, উন্নতশীল দেশগুলির ছেলে-মেয়েরা মনের আনন্দে আর খেলে না। ভারতে কিন্তু তা নয়, এখনও ভারতে নানা প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ক্রিকেটার উঠে আসে একটাই কারণে, সেই দেশে ক্রিকেট উঠে আসে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায়। তাই তো রাঁচির মতো শহর থেকে উঠে এসেছে ধোনির মতো মহাতারকা।