
শেষ আপডেট: 26 March 2024 12:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজামশাই..তোমারে সেলাম!
সত্যি সত্যিই রাজামশাইকে সেলাম ঠোকেন সকলে। একদিনের জন্য ফিরে আসে রাজতন্ত্র। সৈন্যসামন্ত নিয়ে রাজ্য পরিদর্শনে বের হন রাজা। প্রজারা সকলে সেলাম ঠোকেন, উপঢৌকন দেন। রাজা রেগে গেলেই বিপদ। সাজাও হবে ভয়ানক।
এই রাজতন্ত্র কিন্তু এখনও টিকে আছে বাংলার এক গ্রামে। আজ সোমবার দোলের দিনেই রাজামশাই তাঁর রাজত্ব সামলেছেন। চারদিক ঘুরে দেখেছেন। অবাধ্য প্রজাদের সাজাও দিয়েছেন। প্রজারা সকলে মিলে রাজার বেশ সেবাযত্নও করেছেন।
দশ বছর পর এক দিনের জন্য রাজতন্ত্র, একদিনের জন্য রাজমুকুট ওঠে মাথায়। এক দিনই রাজার আদেশ মেনে চলতে হয় গ্রামবাসীদের। মানতে হয় রাজার নিয়ম। মাথা পেতে নিতে হয় সাজাও। এমন রাজতন্ত্র চলে আসছে বর্ধমানের কেতুগ্রামের বহরান গ্রামে। এক দশক অন্তর অন্তর হঠাৎই একদিনের জন্য ফেরে রাজতন্ত্র। একদিনের জন্য রাজা সাজেন এক প্রবীণ গ্রামবাসী। তিনিই হন সেদিনের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা। তাঁর আজ্ঞা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন সকলে। রাজা কী আদেশ দেন, সেই অপেক্ষায় চেয়ে থাকেন প্রজারা। আসলে বহরানের এই রাজা-প্রজা খেলাটা বেশ অন্যরকম। যিনি রাজা তিনি ওই একদিনেরই রাজা। তারপর তিনি আর পাঁচজনের মতোই। বহরানও এ নিয়ম মেনে চলে ১০ বছর অন্তর।
এই রাজামশাই কিন্তু শাস্তি দেন। বেয়াদব প্রজা দেখলেই সাজার আদেশ দেন। কোনরকম বেয়াদপি বরদাস্ত করেন না তিনি। তবে সাজা দেওয়ার ধরনটা আলাদা। এই রাজা কারাগারে বন্দি করেন না, চাবুক পেটাও করেন না। মৃত্যুদণ্ড দেন না। সাজা পেলে শুধু মোটা অঙ্কের টাকা জরিমানা করা হয়। যার যেমন অপরাধ, তার জরিমানাও তেমনই।
বহরান গ্রামের গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, প্রায় ১০০ বছর আগে থেকে এই রীতি চলে আসছে পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রাম থানার বহরান গ্রামে। ১০ বছর অন্তর গ্রামে জয়দূর্গা পুজোর দিন একদিনের জন্য এই গ্রামে ফিরে আসে রাজতন্ত্র। ব্রাহ্মণ বাড়ীর এক সদস্যকে রাজা সজিয়ে ঘোড়াযর গাড়িতে চাপিয়ে সৈন্যসামন্ত সঙ্গে করে নিয়ে রাজত্ব তথা গ্রাম পরিদর্শনে বের করা হয়। এই একদিনই প্রজাদের হালহকিকত জানতে বের হন তিনি।
গ্রামের দরিদ্র ব্রাহ্মণ, বয়স ৮৫ বছরের আশেপাশে। নাম অম্বিকা প্রসাদ চট্টরাজ। তাঁকেই করা হয় রাজা। তিনি বললেন, ১৫ বছর বয়স থেকে ১০ বছর অন্তর একদিনের জন্য নকল রাজা হয়ে আসছেন তিনি। এখন তাঁর বয়স আশি পেরিয়ে গিয়েছে। একদিন রাজা হতে পেরে তিনি খুবই খুশি।প্রজারাও তাঁকে রাজা হিসাবে সম্মান দেয়। এই দিন রাজা যখন তাঁর সৈন্য সামন্ত নিয়ে গ্রামের ভ্রমণে বার হন, তখন কোনও প্রজার বেয়াদপি রেয়াত করেন না। কেউ ঘুম থেকে উঠতে দেরি করলেও তাঁকে দিতে হয় জরিমানা। রাজার সামনে ধূমপান করলে তার তো রেহাই নেই। মোটা টাকার জরিমানা দিতে হয় তাঁকে। রাজার রাজস্বে যা যা জমা হয় তার সবটাই পুজোর কাজে লাগে। দিন পেরোলেই ফের রাজা হয়ে যান আর পাঁচজন গ্রামবাসীর মত। আবার দশ বছরের অপেক্ষা।