
শেষ আপডেট: 9 January 2024 12:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শাসক দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ থেকে শুরু করে সাংসদ তথা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিচারপতির পদ থেকে তাঁর অপসারণ চাইছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা মামলায় সুপ্রিম কোর্ট একবার তাঁর এজলাস থেকে মামলা সরিয়ে দিয়েছেন। তবু যেন অপ্রতিরোধ্য বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।
নিয়ম রয়েছে হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি রাস্তায় দাঁড়িয়েও শুনানি করতে পারেন। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় তা না করলেও হাইকোর্টের বাইরে ধারাবাহিক ভাবে তাঁর পর্যবেক্ষণ জানাচ্ছেন। মঙ্গলবার নতুন কী অপেক্ষা করে রয়েছে, তা পরের কথা। সোমবার রাতে হাইকোর্টের বাইরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চড়া শ্লেষের সঙ্গে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন,“কোনওদিন দেখব একদল চোর মিলে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছেন। বিরাট বিরাট উকিলদের দাঁড় করিয়ে তাঁরা বলবেন, আমরা চৌর্য্যবৃত্তি করে বাঁচি। আমাদের বিষয় সম্পত্তি সব চুরি-চামারি করেই তৈরি করা। যদি এটা বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে আমাদের জীবন ও জীবিকার অসুবিধা হয়ে যাবে। সুতরাং তা সংবিধানের ২১ নম্বর ধারাকে লঙ্ঘন করবে। তাই আমাদের অবাধে চুরি করতে দেওয়ার অধিকার দেওয়া হোক”।
সংবিধানের ২১ নম্বর ধারায় সাধারণ নাগরিকের মৌলিক অধিকারের কথা বলা হয়েছে। এই ধারায় জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা রক্ষার সুনিশ্চিত করার কথা রয়েছে।
বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় কটাক্ষ করে বোঝাতে চেয়েছেন, চোরেরা কোনদিন বলবে চুরি করা তাঁদের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় অপরিহার্য। তাই একে মৌলিক অধিকার বলে ঘোষণা করা হোক।
রবিবার সিপিএমের যুব সংগঠনের বিগ্রেডের পর সোমবার বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের মুখে উঠে আসে ডিওয়াএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদক মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের নামও। তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও মীনাক্ষীকে প্রকারান্তরে সমতুল বলে মন্তব্য করেন। সেই সঙ্গে অভিষেকের উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, তাঁর আয়ের উৎস ও সম্পত্তির হিসাব সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করুন।
সেই সঙ্গে বিচারপতি অমৃতা সিনহার স্বামী প্রতাপচন্দ্র দে-র কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষা প্রসঙ্গে বলেন, কী ধরনের প্রশাসন, আমরা সকলে বুঝতেই পারছি। দেখা যাক, আইনের মুখোমুখি হয়ে কতদিন এভাবে চালাতে পারে”।
দু’দিন আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় পাল্টা প্রশ্ন তুলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আদৌ রয়েছে বলে আপনাদের মনে হয়?
সোমবার হাইকোর্টের বাইরে আরও বিস্ফোরক কথা বললেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “কী ধরনের রাজ্য চলছে এটা? আমি দেখতে চাই এভাবে ক'দিন চলে”।
এক বৃদ্ধার অভিযোগের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে বিচারপতি অমৃতা সিনহার স্বামীর বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে রাজ্য গোয়ান্দা সংস্থা সিআইডি। এই মামলায় কয়েকদিন আগে বিধাননগর আদালতে বিচারপতি সিনহার স্বামীর কণ্ঠস্বরের নমুনা দেওয়ার কথা ছিল। সোমবার বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় সেই বিষয়টি তুলেই রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। এক বিচারপতির স্বামীর জন্য হাইকোর্টের আর এক বিচারপতি সংবাদমাধ্যমে বাইট দিয়ে যেভাবে সওয়াল করছেন তাও বাংলায় নজিরবিহীন বলা যায়। অতীতে এমনটা ঘটেছে বলে অনেকেই মনে করতে পারছেন না।