দ্য ওয়াল ব্যুরো: নির্ভয়া গণধর্ষণ ও হত্যা-কাণ্ডে দুই অপরাধী বিনয়কুমার শর্মা এবং মুকেশ সিং-এর ফাঁসির সাজা মকুবের অভিযোগ ইতিমধ্যেই খারিজ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। এবার ফের প্রাণভিক্ষার আর্জি জানাতে রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ হল মুকেশ সিং। রাষ্ট্রপতি কী বলেন, সে দিকেই তাকিয়ে এখন সকলে।
আজ, মঙ্গলবার ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত বিনয় শর্মা এবং মুকেশে সিং-এর রুজু করা কিউরেটিভ পিটিশনের শুনানি ছিল বিচারপতি এনভি রামান্না, অরুণ মিশ্র, আরএফ নরিম্যান, আর ভানুমতি এবং অশোক ভূষণের বিশেষ বেঞ্চে। সেখানে বিচারপতি রায় দেন, অপরাধীদের আবেদন খারিজ হল। আগামী ২২ জানুয়ারি সকাল সাতটায় তিহাড় জেলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে তাদের দু’জনের এবং অন্য দুই অপরাধী পবন গুপ্তা ও অক্ষয় ঠাকুর সিং-এর।
আদালত সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে কিউরেটিভ পিটিশন দায়ের করে নির্ভয়া গণধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের অন্যতম অপরাধী বিনয় শর্মা। সে তার আইনজীবী এ পি সিং-এর মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে জানায়, তার অপরিণত বয়স, প্রতিকূল আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি, অসুস্থ মা-বাবা, পরিবারের নির্ভরশীলের সংখ্যা, কারাগারে তার ভাল আচরণ এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা ভাল করে বিবেচনা করে দেখা হয়নি দিল্লির পাতিয়ালা হাউস আদালতে। এই ঘটনাকে ‘বিচারব্যবস্থার চূড়ান্ত ব্যর্থতা’ বলে মনে করে সে।
নির্ভয়া গণধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত চার জনই দফায় দফায় সাজা মকুবের আর্জি জানিয়েছে শীর্ষ আদালতে। ফাঁসির সাজা ঘোষণার আগে অক্ষয় ঠাকুরের ১৪ পাতার রিভিউ পিটিশন খারিজ করে দেয় প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদে, বিচারপতি আর ভানুমতী ও বিচারপতি অশোক ভূষণের বেঞ্চ। তার আগে বিনয় কুমার ও মুকেশের রিভিউ পিটিশনও খারিজ করে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সাজা ঘোষণার পরে রায় সংশোধনের আর্জি জানিয়ে ফের সুপ্রিম কোর্টে কিউরেটিভ পিটিশন দাখিল করে বিনয় ও মুকেশ।
এই আবেদন পত্রপাঠ খারিজ করে দেয় আদালত। এর আগেও বিনয় শর্মা রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়েছিল শীর্ষ আদালতে, সেটাও খারিজ করেছিলেন বিচারপতিরা। যদিও শেষ বিকল্প হিসেবে এখনও রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আর্জি জানাতে পারে এই সাজাপ্রাপ্তরা।
অন্য দিকে রবিবারই বস্তা ব্যবহার করে তিহাড় জেলে মহড়া দেওয়া হয়ে গেছে এই চার অপরাধীর ফাঁসির। ফাঁসির জন্য যে দড়িগুলি ব্যবহার করা হবে সেগুলিও পরীক্ষা করা হয়েছে তিহাড় জেলে। প্রত্যেক অপরাধীর যা ওজন, বস্তায় সেই ওজনের পাথর প্রভৃতি পুরে সেই দড়িগুলি পরীক্ষা করে দেখেন জেল কর্তৃপক্ষ।