দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৬/১১ মুম্বই হামলার ষড়যন্ত্রী হাফিজ সইদের সাজার পক্ষে দীর্ঘদিন ধরেই সওয়াল করে আসছে দিল্লি। এতদিন পরে সে সাজা কার্যকর করতে চলেছে পাকিস্তান। সন্ত্রাসে মদত ও অর্থ জোগানোর দায়ে হাফিজকে পাঁচ বছরের সাজা শুনিয়েছে পাক আদালত। আর এই সাজা ঘোষণা হয়েছে প্যারিসে সন্ত্রাসের অর্থ জোগানের উপরে নজরদারির আন্তর্জাতিক সংস্থা এফএটিএফের বার্ষিক সম্মেলনে ঠিক দিনকয়েক আগেই। পাকিস্তানকে ধূসর তালিকাভুক্ত করা হবে কি না তার ফয়সালা হতে চলেছে ওই সম্মেলনেই। কাজেই সব মিলিয়ে হাফিজের সাজা কতটা কার্যকরী হবে সেই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সাউথ ব্লক।
গত বছর জুলাইয়ের মাঝামাঝি পাকিস্তানে গ্রেফতার করা হয়েছিল লস্কর-ই-তইবা প্রধান হাফিজ সইদকে। সন্ত্রাসবাদের প্রচার, জঙ্গি সংগঠনগুলিকে অর্থ সাহায্য ইত্যাদি নানা অভিযোগে হাফিজের বিরুদ্ধে চার্জশিটও পেশ হয়েছিল গুজরানওয়ালা আদালতে। পাকিস্তানের অ্যান্টি টেররিজম অ্যাক্টের (এটএ ১৯৯৭) ১১ ধারায় হাফিজের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ওই পর্যন্তই। তারপর এত মাসেও হাফিজকে সাজা শোনানোর ব্যাপারে তেমন উৎসাহ দেখায়নি পাকিস্তান।
আর দু’দিন বাদেই প্যারিসে এফএটিফের বৈঠক। তার আগে গতকাল, বুধবার পূর্ব লাহোরের একটি আদালত হাফিজকে দু’দফায় দোষী সাব্যস্ত করেছে। নিষিদ্ধ সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সদস্য ও প্রচারক হওয়ায় ছ’মাসের কারাবাস এবং বেআইনি সম্পত্তির মালিকানার জন্য পাঁচ বছরের সাজা। হাফিজের সহযোগী জাফর ইকবালকেও সাড়ে পাঁচ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে বলে জানায় পাক আদালতের সরকারি আইনজীবী।
গত বছর জুনে ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে, সন্ত্রাসবাদীদের অর্থের যোগান বন্ধ করার জন্য তারা যথেষ্ট উদ্যোগ নেয়নি। তার পরেই গ্রেফতার হয় হাফিজ সইদকে। তার পরে জুলাইতেই গ্রেফতার করা হয় হাফিজকে। আবার ঠিক এফএটিএফের বৈঠকের আগেই সাজা শোনানো হল লস্কর-মাথাকে। তাই ধূসর তালিকা থেকে বাঁচতে সবটাই পাকিস্তানের চাল বলেই প্রশ্ন উঠেছে নানা মহলে। হাফিজের সাজা কতটা স্বচ্ছভাবে হবে সেই নিয়েও সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
অতীতে ইরান, উত্তর কোরিয়াকে কালো তালিকায় ফেলেছে এফএটিএফ। পাকিস্তানকে ধূসর তালিকায় ফেলা হয় ২০১৮ সালের জুন মাসের বৈঠকে।। এই তালিকায় থাকা মানে, এফটিএফ মনে করছে আর্থিক অপরাধ বা জঙ্গিদের অর্থসাহায্য বন্ধ করতে না পারার কারণে সে দেশের আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হচ্ছে। এফএটিএফ সন্ত্রাসবাদীদের অর্থসাহায্য রুখতে ২৭ টি শর্ত দিয়েছিল পাকিস্তানকে। তার মধ্যে মাত্র পাঁচটি পূরণ করতে পেরেছে পাকিস্তান। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি তালিবান ও ইরান তাসে আমেরিকাকে পাশে পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে সূত্রের খবর। তার উপর পাকিস্তান পাশে পেয়েছে তাদের সর্বকালীন শক্ত খুঁটি চিনকে। সূত্রের খবর, পশ্চিমের আরও কয়েকটি দেশের ভোটও নাকি পেতে পারে পাকিস্তান।
এফএটিএফ-এর রিপোর্টে বলা হয়েছিল, রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের ১২৬৭ নম্বর ধারায় তালিকাভুক্ত বিশেষ করে লস্কর-ই-তৈবা, জামাত-উদ-দাওয়া, ফালাহ-ই-ইনসানিয়াতের মতো সংগঠন বা তাদের মাথার বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়নি পাকিস্তান। পাকিস্তান অবশ্য দাবি করেছে তারা বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর ৭০০ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে। জঙ্গিদের অর্থ জোগান বা ‘মানি লন্ডারিং’-এর তেমন কোনও প্রমাণই নেই। এবার হাফিস সইদকে সাজা শুনিয়ে নিজেদের স্বচ্ছ প্রমাণ করার আরও একটা ধাপে তারা এগিয়ে যেতে পারবে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।