দ্য ওয়াল ব্যুরো : সংবাদ মাধ্যমে ফাঁস হওয়া রাফায়েল নথির ভিত্তিতে বিমান কেনার চুক্তি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় খতিয়ে দেখার আবেদন করেছিলেন বিজেপিরই দুই প্রাক্তন নেতা অরুণ শৌরি ও যশবন্ত সিনহা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট প্রশান্ত ভূষণ। গত ডিসেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল, ওই নথিগুলি পেশ করতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকার শনিবার সর্বোচ্চ আদালতে হলফনামা দিয়ে জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের গোপন নথিগুলি ফাঁস হলে ভারত রাষ্ট্রের অস্তিত্বই বিপন্ন হবে।
সরকারের বক্তব্য, ওই নথিগুলি প্রকাশিত হলে মহাকাশ গবেষণা, পরমাণু অস্ত্র, সেনাবাহিনীর চলাচল, দেশে ও বিদেশে ছড়িয়ে থাকা ভারতীয় গোয়েন্দাদের পরিচয় ও আরও অনেক কিছু ফাঁস হয়ে যাবে।
কংগ্রেসের অভিযোগ, ইউপিএ আমলে রাফায়েল বিমানের যে দাম ধার্য করা হয়েছিল, পরবর্তী এনডিএ সরকার তার চেয়ে অনেক বেশি দামে কিনেছে। এই অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানানো হয়। কিন্তু গত ডিসেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, এক্ষেত্রে কোনও অনিয়ম হয়েছিল বলে মনে হচ্ছে না। তারপর এক সর্বভারতীয় সংবাদপত্রে রাফায়েল নিয়ে কয়েকটি গোপন নথি প্রকাশিত হয়। তাতে দেখা যায়, রাফায়েল চুক্তি হওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রীর অফিস এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করেছিল। এর ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের আগের রায় খতিয়ে দেখার জন্য আর্জি জানানো হয়।
সরকার এদিন তার হলফনামায় বলেছে, ওই আর্জির কোনও গুরুত্ব নেই। মিডিয়ায় একটি নথির একাংশ প্রকাশ করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পুরো ব্যাপারটাকে অন্যভাবে দেখানোর চেষ্টা হয়েছে। তার ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট আগের রায় পুনর্বিবেচনা করতে পারে না।
এর আগেও সরকার সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছিল, রাফায়েল সংক্রান্ত গোপন নথি আদালতে পেশ করা ঠিক হবে না। গত এপ্রিলে সুপ্রিম কোর্ট সেই দাবি উড়িয়ে দেয়। তাকে বিরাট জয় বলে মনে করেছিল কংগ্রেস। দলের সভাপতি রাহুল গান্ধী বলেন, এতদিনে সর্বোচ্চ আদালতও স্বীকার করে নিল, চৌকিদার চোর হ্যায়। সঙ্গে সঙ্গে বিজেপির নেত্রী মীনাক্ষী লেখি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে বলেন, বিচারপতিরা যা বলেননি, রাহুল তা তাঁদের মুখে বসাচ্ছেন। এই কাজ আদালত অবমাননার শামিল। রাহুলও পরে স্বীকার করে নেন, নির্বাচনী প্রচারের উত্তেজনায় তিনি ভুল করে ফেলেছিলেন।
কংগ্রেসের অভিযোগ, রাফায়েল চুক্তি করার সময় দুর্নীতি হয়েছে। প্রথমত অনেক বেশি দাম দিয়ে ওই বিমান কেনা হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, যে ফরাসী সংস্থা ওই বিমান বানায় সেই দাসো কোম্পানির অংশীদার হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছে শিল্পপতি অনিল অম্বানির সংস্থাকে। যদিও সেই সংস্থার যুদ্ধবিমানের ব্যাপারে কোনও অভিজ্ঞতা নেই। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হ্যালকে বঞ্চিত করা হয়েছে।