দ্য ওয়াল ব্যুরো : যে কোনও পরিস্থিতিতে ভারতের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে তৈরি বায়ুসেনা। বৃহস্পতিবার 'এয়ারফোর্স ডে'-তে এমনই জানালেন বায়ুসেনার প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল রাকেশ কুমার সিং ভাদুরিয়া। তাঁর কথায়, আমি দেশকে আশ্বাস দিতে চাই, ভারতের বায়ুসেনা এখন যে কোনও পরিস্থিতিতে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার ক্ষমতা রাখে।
এদিন হিন্ডন বিমানঘাঁটিতে ভাষণ দেন বায়ুসেনা প্রধান। তিনি বলেন, "বায়ুসেনার বয়স হল ৮৯ বছর। ভারতীয় বায়ুসেনার মধ্যে এখন বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। আমরা এখন ইন্টেগ্রেটেড মাল্টি ডোমেন অপারেশনসের যুগে প্রবেশ করেছি।"
কোভিড অতিমহামারীর কথা উল্লেখ করে বায়ুসেনা প্রধান বলেন, বিশ্ব জুড়ে যখন ওই রোগ ছড়িয়ে পড়েছে, তখন আমাদের দেশ দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছে। এই সময়েও বায়ুসেনা পুরোদমে অপারেশন চালাতে তৈরি। এরপর লাদাখে চিনের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধের কথা উল্লেখ করে ভাদুরিয়া বলেন, "উত্তর সীমান্তে যখন সমস্যা দেখা দিয়েছিল, আমরা খুব কম সময়ের মধ্যে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। আমি বায়ুসেনার যোদ্ধাদের নির্দেশ দিয়েছিলাম, পদাতিক সেনার সাহায্যে যে কোনও পদক্ষেপ নিতে তৈরি থাকতে হবে।"
এদিন হিন্ডন বিমানঘাঁটিতে উপস্থিত ছিলেন চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ বিপিন রাওয়াত, সেনাপ্রধান মনোজ মুকুন্দ নারাভানে, নৌসেনা প্রধান করমবীর সিং।
কয়েকদিন আগে সাংবাদিক বৈঠকে লাদাখ প্রসঙ্গ তুলে বায়ুসেনাপ্রধান বলেন, চিনের থেকে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় ভারতের শক্তি অনেক বেশি। ভারতীয় বাহিনী সামরিক কৌশলেও এগিয়ে রয়েছে। চিনের সেনা কিছুতেই ভারতের শক্তির কাছে পেরে উঠবে না।
এয়ার চিফ মার্শাল বলেন, নর্দার্ন ও ওয়েস্টার্ন, দুই ফ্রন্টেই শক্তি বাড়ানো হয়েছে। শত্রুপক্ষের যে কোনও কৌশলগত চ্যালেঞ্জ ও আগ্রাসনের মোকাবিলা করতে তৈরি বায়ুসেনা। অরুণাচল, সিকিম ও উত্তরাখণ্ডে চিন সীমান্তেও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে রেখেছে বায়ুসেনা। বায়ুসেনাপ্রধানের কথায়, “সবকটি সীমান্তবর্তী এলাকায় শক্তি বাড়িয়ে রেখেছে বায়ুসেনা। স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে প্রস্তুতি আরও বেশি। লাদাখ সেখানে ছোট্ট একটা অংশ।”
গালওয়ানের সংঘর্ষের পরেই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় যুদ্ধবিমান নামিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা। এয়ার চিফ মার্শাল জানিয়েছেন, জুন মাসে হট স্প্রিংয়ের কাছে দুই দেশের বাহিনী মুখোমুখি সংঘাতে জড়ানোর পরেই চূড়ান্ত সতর্কবার্তা পাঠানো হয় বায়ুসেনাকে। আকাশযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হলে তার জন্য সবরকমভাবে তৈরি থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি, ফরওয়ার্ড বায়ুসেনাঘাঁটিগুলিতেও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়। কোনওভাবে চিনের ফাইটার জেট ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় ঢুকে এলে যাতে কঠোর মোকাবিলা করা যায় তার জন্যই কমব্যাট ফাইটার জেটগুলিকে তৈরি থাকতে বলা হয়।
ভাদুরিয়া বলেছেন, সীমান্তের সুরক্ষা নিয়ে ভারতের সশস্ত্র বাহিনী সব সময় প্রস্তুত ও সজাগ থাকে। সামরিক পর্যায়ের আলোচনায় চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পরেও চিনা সেনার অন্যায় আগ্রাসন কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ভারতের পথে পা বাড়ালে লাল সেনাকে যোগ্য জবাব দেওয়ার মতো প্রস্তুতি আছে বায়ুসেনা বাহিনীর।