দ্য ওয়াল ব্যুরো : কয়েকদিন আগেই জইশ ই মহম্মদ প্রধান মৌলানা মাসুদ আজহারকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী বলে ঘোষণা করতে বাধা দিয়েছে চিন। রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য চিন গত এক দশকের মধ্যে চারবার জইশ প্রধানের বিরুদ্ধে প্রস্তাব নিতে দেয়নি। কিন্তু তার পরেও আশা ছাড়ছে না ভারত। একটি সূত্রে খবর, ভারত স্থির করেছে, চিনের ব্যাপারে ‘যতদিন প্রয়োজন ততদিনই’ ধৈর্য ধরা হবে। শেষ পর্যন্ত মাসুদকে ঠিকই আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী বলে ঘোষণা করা যাবে।
রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে যদি মাসুদকে কালো তালিকাভূক্ত করা যায়, তাহলে তাঁর সম্পত্তি ফ্রিজ করে দেওয়া হবে। তাঁর চলাফেরার ওপরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। তাঁকে যাতে কেউ অস্ত্র বিক্রি করতে না পারে, সেদিকেও নজর রাখবে রাষ্ট্রপুঞ্জ। কিন্তু চিনের ভেটো দেওয়ার জন্যই মাসুদের বিরুদ্ধে ওই ব্যবস্থাগুলি নেওয়া যাচ্ছে না।
একটি সূত্রে খবর, ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানে, পাকিস্তানের সঙ্গে কয়েকটি ব্যাপারে সমঝোতা করতে হবে চিনকে। সেজন্য বেজিং লক্ষ রাখছে যাতে ইসলামাবাদ কোনভাবে চটে না যায়। কয়েকটি বাধ্যবাধকতার কারণেই মাসুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাবে সায় দিতে পারবে না চিন। তারা বলছে, মাসুদের ব্যাপারে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হবে যা সব পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়। ‘সব পক্ষের’ মধ্যে পাকিস্তানও পড়ছে। অর্থাৎ চিন চাইছে, মাসুদের বিষয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক যা পাকিস্তানেরও মনঃপুত হয়।
রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের অপর ১৪-১৫ টি সদস্য দেশ কিন্তু ভারতকেই সমর্থন করেছে। সাতটি সদস্য দেশ মিলে মাসুদের বিরুদ্ধে প্রস্তাবটি ‘কো স্পনসর’ করেছে। নিয়মমতো চিন ওই প্রস্তাবে ভেটো দেওয়ার পরে আগামী ছ’মাস পরে তা ফের রাষ্ট্রপুঞ্জে পেশ করা যাবে। এর মধ্যে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য দেশগুলিকে মাসুদের কুকীর্তি নিয়ে আরও তথ্য পেশ করবে ভারত।
ফিনানসিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স নামে এক আন্তর্জাতিক সংস্থারও সাহায্য পাবে বলে আশা করছে ভারত। কেউ সন্ত্রাসবাদীদের সাহায্য করছে কিনা, সেদিকে লক্ষ রাখে ওই টাস্ক ফোর্স। তাদের কাছে ভারত প্রমাণ দেবে, কীভাবে পাকিস্তান জঙ্গিদের মদত দিয়ে চলেছে। কিছুদিন আগে পাকিস্তান জঙ্গিদের কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে বটে, কিন্তু তা নিতান্তই লোকদেখানো।
বিদেশ মন্ত্রক থেকে কয়েকদিন আগে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, চিন যেভাবে মাসুদের বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাশ হওয়া আটকে দিল, তাতে আমরা অসন্তুষ্ট। যারা আমাদের নাগরিকদের ওপরে আক্রমণ করে তাদের যাতে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যায়, সেজন্য আমরা সবরকম চেষ্টা চালিয়ে যাব।