দ্য ওয়াল ব্যুরো : লোকসভায় মহাত্মা গান্ধীর ঘাতক নাথুরাম গডসেকে একটি আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন বুধবার। সেজন্য শুক্রবার দু'বার ক্ষমা চাইতে হল স্বাধ্বী প্রজ্ঞা সিং ঠাকুরকে। এর মধ্যে লোকসভার ভিতরে ও বাইরে প্রজ্ঞার ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। অস্বস্তিতে পড়েছে তাঁর দল বিজেপি। সাধ্বীকে ডিফেন্স প্যানেল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার প্রজ্ঞা লোকসভায় বলেন, "আমি নাথুরাম গডসেকে দেহসপ্রেমিক বলিনি। কারও ভাবাবেগে যদি আঘাত লেগে থাকে, আমি ক্ষমা চাইছি।"
প্রথমবার ক্ষমা চাওয়ার ঘণ্টা তিনেকের মধ্যে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা গডসে বিতর্কের অবসান ঘটানোর জন্য বিভিন্ন দলকে বৈঠকে ডাকেন। তখন প্রজ্ঞা আরও একবার ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দেন। এর আগে তিনি বলেছিলেন, আমার মন্তব্য বিরোধীরা বিকৃত করেছেন। তাঁকে 'সন্ত্রাসবাদী' বলায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সমালোচনা করেন। বৃহস্পতিবার রাহুল টুইটারে লেখেন, 'সন্ত্রাসবাদী প্রজ্ঞা সন্ত্রাসবাদী গডসেকে বলছেন দেশপ্রেমী। সংসদে আজ খুব দুঃখের দিন নিঃসন্দেহে।'
৪৯ বছর বয়সী প্রজ্ঞা অভিযোগ করেন, কোনও প্রমাণ ছাড়াই এক এমপি তাঁকে সন্ত্রাসবাদী বলেছেন।
বুধবার লোকসভায় এসপিজি সুরক্ষা সংশোধনী বিল নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। তখন ডিএমকে সাংসদ এ রাজা বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে নাথুরাম গডসের নাম উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, নাথুরাম নিজে স্বীকার করেছিলেন, দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে তিনি গান্ধীজির প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করতেন। তাঁর বক্তব্যের ফাঁকে প্রজ্ঞা বলে ওঠেন, নাথুরাম তো দেশভক্ত। তাঁর কথা এখানে উল্লেখ করছেন কেন? তখনই বিরোধীরা হইচই শুরু করেন। বিজেপি নেতা জে পি নাড্ডা এবং রাজনাথ সিং পর্যন্ত তাঁর সমালোচনা করেন।
পরে প্রজ্ঞা বলেন, গডসে নয়, এ রাজা তাঁর ভাষণে বিপ্লবী উধম সিং-এর নাম উল্লেখ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের জন্য কুখ্যাত জেনারেল ডায়ারের বিরুদ্ধে উধম সিং ২০ বছর ধরে ঘৃণা পোষণ করতেন। তখনই আমি বলেছিলাম, দেশভক্ত কা নাম মত লিজিয়ে...।