দ্য ওয়াল ব্যুরো : ২০ এপ্রিল থেকে ধীরে ধীরে উঠবে কড়াকড়ি। সক্রিয় হয়ে উঠবে অর্থনীতির কোনও কোনও ক্ষেত্র। অর্থনীতিবিদরা জানাচ্ছেন, ২৪ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত প্রথম দফার লকডাউনে অর্থনীতির মাত্র ২৫ শতাংশ সক্রিয় ছিল। কিন্তু ২০ এপ্রিল থেকে কোনও কোনও ব্যাপারে ছাড় দেওয়া হলে অর্থনীতির ৪৫ শতাংশ সক্রিয় হবে।
২০ এপ্রিল থেকে সক্রিয় হয়ে উঠবে গ্রামীণ অর্থনীতি। অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবাও চালু হবে। কিন্তু লকডাউনের ফলে যে ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণ হতে সময় লাগবে। তাছাড়া ২০ এপ্রিলই যে অর্থনীতি পুরোপুরি সচল হয়ে উঠবে তা নয়। নমুরা সিকিউরিটিজ ফার্মের সঙ্গে যুক্ত অর্থনীতিবিদ সোনাল বর্মা বলেন, "আমাদের হিসাবমতো আংশিক ছাড় দিলে অর্থনীতির এক বড় অংশ সচল হয়ে উঠবে। প্রথম দফায় লকডাউনের সময় অর্থনীতির মাত্র ২৫ শতাংশ সক্রিয় ছিল। কিন্তু ২০ এপ্রিলের পর সম্ভবত ৪৫ শতাংশ সক্রিয় হয়ে উঠবে।"
সরকার জানিয়েছে, অতিমহামারীর সময় মানুষের জীবন বাঁচানোর ওপরেই সবচেয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে নিরাপত্তা বজায় রেখেই অর্থনীতির কোনও কোনও ক্ষেত্র খুলে দেওয়া যায়। ইকুইটিজ ফার্ম এমকে গ্লোবালের সঙ্গে যুক্ত অর্থনীতিবিদ বর্ষিত শাহ বলেন, লকডাউন শিথিল করা হলেই দেশের অভ্যন্তরে চাহিদা হু হু করে বাড়বে।
দেশের যে অঞ্চলগুলি হটস্পট হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে, সেখানে অবশ্য ২০ এপ্রিলের পরও নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে না। অর্থাৎ দেশের ১৭০ টি জেলায় কোনও অর্থনৈতিক কার্যকলাপ চালু হবে না। ওই জেলাগুলিতে যা উৎপাদন হয়, তা মোট জাতীয় উৎপাদন (জিডিপি)-র ৩৭ শতাংশ। কেবলমাত্র যেখানে সংক্রমণ কম, সেখানেই ২০ এপ্রিল থেকে অর্থনীতির কোনও কোনও ক্ষেত্রে কাজ শুরু হবে। কিন্তু যদি দেখা যায়, তার ফলে রোগ আরও বেশি ছড়িয়ে পড়ছে, তাহলে ফের কঠোরভাবে কার্যকরী হবে লকডাউন।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ৪০ দিনের লকডাউনের ধাক্কা সামলে উঠতে সময় নেবে অর্থনীতি। আইএমএফ আগে বলেছিল, ২০২০-২১ সালে ভারতের অর্থনীতির বিকাশ হবে ৫.৮ শতাংশ। কিন্তু অতিমহামারীর পরে তা কমিয়ে বলা হচ্ছে ১.৯ শতাংশ। বিশ্ব ব্যাঙ্ক থেকে বলা হয়েছিল, চলতি আর্থিক বছরে ভারতে জিডিপি-র বিকাশ হবে ৬.১ শতাংশ হারে। কিন্তু এখন বলা হচ্ছে ১.৫ থেকে ২.৮ শতাংশের বেশি হবে না।