দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিডের গ্রাফ পড়তে শুরু করেছিল। ভিড় কমতে শুরু করেছিল হাসপাতালে। সকলেই ভাবছিলেন, কোভিডচিত্র স্বাভাবিক হওয়ার পথে এগোচ্ছে, নতুন বছর হয়তো উদ্বেগমুক্ত কাটবে। কিন্তু তার মধ্যেই এসে গেছে ওমিক্রনের চোখরাঙানি। করোনার এই নয়া স্ট্রেন নতুন আশঙ্কা নিয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। ভারতেও খোঁজ মিলেছে ওমিক্রন আক্রান্তের। এই পরিস্থিতিতে ফের নড়ে বসেছে কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালগুলিও। কোভিড বেডের সংখ্যা কমানোর যে পরিকল্পনা তারা করেছিল, তা এখনই বাস্তবায়িত করবে না।
আমরি হাসপাতালে কোভিডের জন্য রয়েছে ৫০টি বেড। এবার সেটি কমিয়ে ৪০ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ওমিক্রনের খবরে সে সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
এখন কয়েক সপ্তাহ ধরে দিনে গড়ে ২ জন বা ৫ জন করে কোভিড রোগী ভর্তি হচ্ছেন আমরি-তে। হাসপাতালের সিইও রূপক বড়ুয়া বলেন, "ওমিক্রন অনেক বেশি সংক্রামক বলে মনে করা হচ্ছে। আমরা পরিস্থিতির উপর আরেকটু নজর রাখতে চাই, রোগীর সংখ্যা বাড়ে কিনা দেখতে চাই।"
মেডিকা সুপারস্পেশ্যালিটি হাসপাতালে অক্টোবর মাসেই এক দফা কমানো হয়েছে কোভিড বেড। এখন সেখানে ৩৬টি বেড রয়েছে। এই সংখ্যা আরও কমানোর কথা ছিল, তার মধ্যেই এসে পড়েছে ওমিক্রন। তাই এখুনি বেড কমাচ্ছে না মেডিকাও।
মেডিকার প্রধান অলোক রায় বলেন, "আমাদের তিনশোর বেশি নন-কোভিড বেড রয়েছে। তবু এখনও অনেক রোগীকে নিতে পারছি না। তাই কয়েকটি কোভিড বেড কমিয়ে নন-কোভিড করলে ভালই হতো। কিন্তু ওমিক্রন নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে হবে। তাই আমরা এখনই বেড কমাচ্ছি না কোভিডের। যাতে প্রয়োজনে বাড়াতে পারি, সেই ব্যবস্থা রাখছি।"
সিএমআরআই হাসপাতালও কড়া নজর রেখেছে ওমিক্রন পরিস্থিতির উপর। যদিও এখন এই হাসপাতালে কোভিড রোগীর সংখ্যা ২০ জনেরও কম, তবু এখনই বেড কমানোর কথা ভাবছে না হাসপাতাল।
আরএন টেগোর হাসপাতালে ৪৫ কোভিড বেড রয়েছে। তার মধ্যে খান ২০-২২ বেডে রোগী রয়েছেন। গত সাত সপ্তাহ ধরে এমনটাই পরিসংখ্যান। কিন্তু তা সত্ত্বেও ওমিক্রনের দিকে নজর রেখে এখনই কোনও সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না হাসপাতাল।
বেলভিউ হাসপাতালে এখন ৪০ জন কোভিড রোগী ভর্তি আছেন। বেডের সংখ্যা কমাচ্ছে না তারাও। পিয়ারলেস হাসপাতালেও ৪২টি বেড কোভিড রোগীদের জন্য যেমন নির্ধারিত আছে, তেমনই থাকবে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।