
শেষ আপডেট: 11 December 2023 14:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুর্গাপুজোর ভাসানের দিন দু'পক্ষের ঝামেলার রেশ গড়িয়েছিল বহুদূর। প্রথমে থানা পুলিশ। তাতেও লাভ হয়নি। এরপর বাড়ি ঢুকে হামলা। সেই ঘটনাতেই 'খুন' হয়েছিলেন প্রতিবন্ধী সিআরপিএফ জওয়ানের প্রৌঢ়া মা। আগুনে পুড়ে তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছিল। সেই ঘটনা শোনার পরেই তীব্র হতাশা প্রকাশ করলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত। তাঁর দাবি, এটা মার্ডার কেস। বিচারপতির নির্দেশ, কোনও অভিযোগ যদি জমা না পড়ে, তাহলে পুলিশকে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা রুজু করতে হবে।
বিজয়া দশমীতে ঠাকুর ভাসানের সময় নদিয়ার শান্তিপুরে দুপক্ষের মধ্যে গোলমাল বাঁধে। সেই সূত্রে দুপক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে শান্তিপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করে। এরপর প্রতিশোধ নিতে গত ২৫ নভেম্বর শান্তিপুর ডাঙাপাড়ার বাসিন্দা প্রতিবন্ধী হয়ে যাওয়া সিআরপিএফ জওয়ান প্রশান্ত মল্লিকের বাড়িতে পাঁচ জন ঢুকে হামলা করে। তখন প্রশান্ত মল্লিক বাড়িতে ছিলেন না। তাঁর তার ৬৩ বছরের প্রৌঢ়া মা একাই ছিলেন বাড়িতে।
দুষ্কৃতীরা যখন বাড়িতে ঢুকে হামলা করছে, তখন প্রতিবাদ করেন মহিলা। তিনি বাধা দিতে গেলে তাঁকে আগুনে পুড়িয়ে খুন করা হয়। প্রশান্ত মল্লিকের পরিবার পরে থানায় গেলে পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর অভিযোগ দায়ের করে বিষয়টা নিজেদের মধ্যে মিটমাট করে নেওয়ার পরামর্শ দেয় বলে অভিযোগ। সেই নিয়ে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে প্রশান্তের পরিবার। তারপর শান্তিপুর থানার তরফে এফআইআর দায়ের করা হয়।
সোমবার মামলার শুনানিতে পুরো বিষয়টা শোনার পরেই রেগে ওঠেন বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত। তাঁর দাবি, "এটা তো মার্ডার কেস। কোনও অভিযোগ না পেলে পুলিশ সুয়োমোটো মামলা করবে। কিন্তু সেটা না করা যথেষ্ট খারাপ ইঙ্গিত।"
আগামী সপ্তাহে কেস ডায়েরি সহ তদন্তে অগ্রগতির রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।