দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘ দিনের বন্ধুকে বিদায় জানানো সহজ নয়। তা-ও যদি অপরিচিত বা স্বল্প চেনা মানুষ হন, তা হলে আলাদা কথা। কিন্তু অনেক দিনের চেনা বন্ধুকে বিদায় জানানো সবার জন্যই কঠিন। আর যাঁদের ক্ষেত্রে নিজের ব্যবহৃত কিছু জিনিস বন্ধুর মতোই প্রয়োজনীয় ও প্রিয় হয়ে ওঠে, তাঁদের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা একই। বিশেষ করে, যে জিনিস ব্যবহারের ফলে জীবন হয়ে ওঠে স্বাচ্ছন্দ্যময়। যেমন চশমা।
সেই ভাবনা থেকেই ব্যবহৃত চশমাগুলিকে ফেলে দিতে পারেন না জাপানিরা। জমা করে দিয়ে আসেন, হিরোসিমা শহর থেকে ১৮০ কিলোমিটার (১১২ মাইল) দূরে ইজুমোর ইচিবাতা মন্দিরে। প্রতি বছরের ৮ নভেম্বর এই তীর্থস্থানে এসে পুরনো চশমাকে ধন্যবাদ জানিয়ে, তাকে মন্দিরের হেফাজতে রেখে, বিদায় জানান অসংখ্য মানুষ।
এই মন্দিরে চোখে দেখার সমস্যা ও চোখের রোগ থেকে আরোগ্য কামনায় প্রার্থনা করতে যায় মানুষ। এরই সূত্র ধরে চশমাকে বিদায় জানানোর আয়োজন থাকে সেখানে।
‘মেডিসিন বুদ্ধ’ হিসেবে পরিচিত এক জাপানি লামা ইয়াকুচি নিয়োরাইকে উৎসর্গ করে ৮৯৪ খ্রিস্টপূর্বে গড়ে ওঠে এই ইচিবাতা মন্দির। সেখানে তাঁর একটি ভাস্কর্যও আছে। তাতে দেখা যায়, বাঁ হাতে ওষুধের পাত্র ধরে আছেন তিনি। এজন্য ইচিবাতা মন্দিরকে কেউ কেউ বলেন, ‘নয়নের লর্ডেস’। লর্ডেস হলো একটি ফরাসি শহর। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের তীর্থযাত্রীরা আরোগ্য কামনায় সেখানে যান।
সাধারণত নির্দিষ্ট কিছু কারণে মানুষ বাতিল করে পুরনো চশমা। কখনও চিকিৎসক প্রেসক্রিপশন বদলে দিলে তাঁদের নতুন চশমা নিতে হয়। কখনও আবার ডিজ়াইন পুরনো হয়ে গেলে নতুন চশমা গড়ান তাঁরা। এই ইচিবাতা মন্দিরের অনুষ্ঠানে বহু মানুষকেই অন্যের রেখে যাওয়া ব্যবহৃত চশমা দান করা হয়। যাঁদের চশমা কেনার সক্ষমতা নেই, তাঁরা সেগুলো বিনামূল্যে পেয়ে থাকেন।