দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের কলকাতার বুকে অস্বাভাবিক মৃত্যু বৃদ্ধার। দক্ষিণ কলকাতার রিজেন্ট পার্ক থেকে উদ্ধার হল ৬৮ বছরের সমীররঞ্জন সুরের তোষকে মোড়া, বরফে চাপা দেওয়া দেহ। প্রাথমিক ভাবে পুলিশের সন্দেহ, বৃদ্ধের শ্যালক খুন করেছে তাঁকে। জমি-বাড়ি সংক্রান্ত বিবাদের জেরেই এই খুন বলে মনে করছেন সকলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, দিন সাতেক আগে তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে পরিচিতদের সঙ্গে পঞ্জাব ও হিমাচলপ্রদেশ বেড়াতে গিয়েছিলেন। একাই ছিলেন সমীরবাবু। তাঁর শ্যালক বিশ্বনাথ দাস দেখাশোনা করছিল সমীরবাবুর। অভিযোগ, এই সুযোগেই ভগ্নিপতিকে খুন করেছে সে। শুধু তাই নয়, এক হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, রোগীকে না দেখেই ডেথ সার্টিফিকেট দিয়ে দেন সেই চিকিৎসক। তার পরেই দেহটি তোষকে মুড়ে, বরফে চাপা দিয়ে লোপাট করার চেষ্টা করে বিশ্বনাথ। তা করতে গিয়েই ধরা পড়ে যায় প্রতিবেশীদের হাতে।
যদিও পুলিশের কাছে খুনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিশ্বনাথ। দাবি করেছে, শারীরিক অসুস্থতার জেরে দু’দিন আগে স্বাভাবিক ভাবেই মৃত্যু হয়েছে সমীর বাবুর। কিন্তু তার দিদি অর্থাৎ সমীরবাবুর স্ত্রী বাইরে থাকায় দেহটি বরফ দিয়ে রেখেছিল বলে জানিয়েছে সে। এমনকি তিনি মৃত্যুর খবরও দিয়েছেন তাঁর দিদি অর্থাৎ সমীরবাবুর স্ত্রীকে। তাঁরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ফিরছেন পঞ্জাব থেকে।
প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, তাঁরা সোমবার থেকেই পচা গন্ধ পাচ্ছিলেন সমীরবাবুর বাড়ি থেকে। তার পরেই আজ, মঙ্গলবার একটি বড় তোষক এবং অনেকটা বরফের চাঁই নিয়ে সমীরবাবুর বাড়িতে ঢুকতে দেখা যায় বিশ্বনাথকে। তাতেই সন্দেহ হয় প্রতিবেশীদের। সন্দেহ বিশ্বাসে পরিণত হয়, যখন একটি ম্যাটাডোর ডেকে এনে সেখানে সমীরবাবুর দেহ চাপানো হয় শ্মশানে নিয়ে যাওয়ার জন্য। তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন তাঁরা, খবর দেন পুলিশে।
এর পরেই আশপাশের এলাকায় বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার করে বৃদ্ধের দেহ। বাঙ্গুর হাসপাতালে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয় দেহ।
পুলিশ জানিয়েছে, আশপাশের প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিশ্বনাথ তাঁর বৃদ্ধ ভগ্নিপতি সমীরের উপর প্রতিদিনই অত্যাচার করত। জমি-বাড়ি-সম্পত্তি নিয়ে বিবাদের জেরে এই অত্যাচার। বাড়িটি প্রোমোটারদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য উৎসাহী ছিল বিশ্বনাথ। সমীরবাবু রাজি হননি কিছুতেই। এই নিয়ে বচসা লেগেই ছিল। শেষমেশ তা গড়ায় খুনে।
এর পরের পর্বটা আরও মারাত্মক। পুলিশ জেনেছে, স্থানীয় এক হোমিওপ্যাথি চিকিৎসককে বাড়িতে ডেকে আনা হয় সমীরবাবু অসুস্থ বলে। এর পরে তাঁকে জানানো হয়, সমীরবাবু মারা গেছেন, ডেথ সার্টিফিকেট লিখে দিতে হবে। ফোন করে নিহত সমীরবাবুর স্ত্রীয়ের সঙ্গে ওই চিকিৎসকের কথাও বলিয়ে দেয় বিশ্বনাথ। এর পরেই ডেথ সার্টিফিকেট দেন ওই চিকিৎসক।
চিকিৎসককে জেরা করা হলে তিনি পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, মৃতদেহ নাকি দেখতেই দেওয়া হয়নি তাঁকে। কিন্তু মৃত ব্যক্তিকে না দেখে আইনত ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়া যায় না। ফলে চিকিৎসকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।