কাশ্মীরে পাথর ছোঁড়ার ঘটনা কমেছে ৩৭০ ধারা অবলুপ্তির পরে, দাবি সরকারের
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বদলে গেছে কাশ্মীর। আগের মতো ভূস্বর্গে আর পাথরবাজি হয় না। পাথরের আঘাতে মৃত্যুও কমেছে। আর এর সবটাই হয়েছে রাজ্য থেকে ৩৭০ ধারা অবলুপ্তির পরে। এমনটাই দাবি সরকারের। এক বছর আগে বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত রাজ্যের মর্যাদা প্রত্যাহারের পর থ
শেষ আপডেট: 29 July 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বদলে গেছে কাশ্মীর। আগের মতো ভূস্বর্গে আর পাথরবাজি হয় না। পাথরের আঘাতে মৃত্যুও কমেছে। আর এর সবটাই হয়েছে রাজ্য থেকে ৩৭০ ধারা অবলুপ্তির পরে। এমনটাই দাবি সরকারের। এক বছর আগে বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত রাজ্যের মর্যাদা প্রত্যাহারের পর থেকে জম্মু-কাশ্মীরে পাথর ছোঁড়ার ঘটনা অনেকটাই কমে গিয়েছে বলে সরকারি তরফে জানা গিয়েছে।
ওই তথ্যে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের প্রথম ছ'মাসের সঙ্গে আগের বছরের প্রথম ছ'মাসের পাথর ছোঁড়ার ঘটনার তুলনা করলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে। ২০১৮ সালে পাথর ছোঁড়ার ঘটনা ছিল ৯৪৪টি ঘটনা। সেখানে চলতি বছরে মাত্র ২১১টি। এর ফলে নিরাপত্তাকর্মী ও সাধারণ মানুষের হতাহত হওয়ার ঘটনাও অনেক কমে গিয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে সরকারি তথ্যে। উপত্যকায় বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তাকর্মীর উপস্থিতি মানুষের মনে ভরসা তৈরি করতে পেরেছে বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ অগস্টে ৩৭০ ধারা বাতিল হয়। তার আগে যারা অশান্তি সৃষ্টি করতেন তাদের চিহ্নিত করে ইতিমধ্যেই জেলে পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন
প্রায় এক বছর আগে ২০১৯ সালের ৫ অগস্ট সংবিধানের ৩৭০ ধারা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় নরেন্দ্র মোদী সরকার। পাথর ছোঁড়া কমে যাওয়ায় তার জেরে মৃত্যুও কমে গিয়েছে সেই সময় থেকে। সরকারি হিসেবে দাবি করা হয়েছে, ২০১৮ ও ২০১৯ দুই বছরের পরিসংখ্যানই সেই কথা বলছে। ২০১৮ সালে এই ধরনের ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১৮। সেটা ২০১৯ সালে কমে হয়েছে ৩। আর ২০২০ সালের প্রথম সাত মাসে পাথরের আঘাতে মাত্র ১ জন নাগরিক মারা গিয়েছেন।
শুধু মৃত্যুই নয়, পাথরের আঘাতে সাধারণ মানুষ থেকে নিরাপত্তারক্ষীদের আহত হওয়াও কমেছে। এই দুই বছরের তুলনামূলক হিসেব বলছে, আহত হওয়ার সংখ্যা ২০১৮ সালে ছিল ৩৩৫। সেখান থেকে কমে ৬৩ হয়েছে ২০১৯ সালে। ২০২০ সালে সেই সংখ্যা আরও কমে এখনও পর্যন্ত আহত ১৪ জন।
গত বছরের ৫ অগস্ট থেকে জম্মু ও কাশ্মীরে প্রায় এক বছর ধরে পুরোপুরি লকডাউন চলছে বলে আগেই দাবি করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংক্রান্ত সংগঠন। সেই দাবিও খারিজ করেছে প্রশাসন। বলা হয়েছে, সেই সময়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করা হলেও গত বছরের ১৭ অগস্ট থেকেই সব পরিষেবা স্বাভাবিক হতে শুরু করে। অগস্ট মাসের মধ্যেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের স্কুল খুলে যায় এবং সব জেলার সর্বত্র সাধারণ মানুষের অবাধ যাতায়াত চালু হয়। অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময়ে পোস্ট-পেইড ফোন পরিষেবা চালু হয় এবং ব্লক ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের নির্বাচনও হয়েছে।
একই সঙ্গে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে প্রশাসনের পক্ষে ৪০০ ইন্টারনেট কিয়স্ক চালু হয়েছে। একই সঙ্গে চালু হয় টুজি ইন্টারনেট পরিষেবা। আর মার্চ মাস থেকেই রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তি দেওয়া শুরু হয়। মুক্তি পান প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লা, ওমর আবদুল্লারা।