দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওড়িশার রসগোল্লা পেল জিওগ্র্যাফিকাল ইন্ডিকেটর ট্যাগ বা জিআই ট্যাগ। যার অর্থ ওড়িশাকে রসগোল্লার উৎসভূমি হিসেবে স্বীকার করে নেওয়া হল। দুবছর আগেই বাংলার রসগোল্লা জিআই ট্যাগ পেয়েছিল। কিন্তু চেন্নাইয়ে অবস্থিত জিআই রেজিস্ট্রি'র ওয়েবসাইটে সোমবার আনুষ্ঠানিক ভাবে ওড়িশাকে রসগোল্লার জন্য জিআই ট্যাগ দেওয়ার কথা ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গে রসগোল্লা আবিষ্কারের একচেটিয়া কৃতিত্বের দাবি হারালো বাংলা।
পশ্চিমবঙ্গের তরফ থেকে রসগোল্লার ওপর জিআই ট্যাগের জন্য আবেদন করার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ওড়িশার তরফ থেকে দাবি করা হয় এমন ভুবনমোহিনী মিষ্টিটির উৎসভূমি মহানদীর তীরবর্তী অঞ্চলে। তাদের দাবির সপক্ষে তথ্যপ্রমাণ জোগাড় করার জন্য ওড়িশা সরকার একটি কমিটিও গঠন করে। কিন্তু যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য প্রমাণ সেই কমিটি সংগ্রহ করতে না পারায় জিআই ট্যাগ সে যাত্রায় হাতছাড়া হয়ে যায়।
অন্যদিকে নবীন চন্দ্র দাশের (জন্ম: ১৮৪৫) দৌলতে রসগোল্লা আবিষ্কারের দৌড়ে পশ্চিমবঙ্গ ২০১৭ সালে নভেম্বরে এই অভিনব মিষ্টির উৎসভূমির শিরোপা পেয়ে যায়। এই সাময়িক পরাভবে হতোদ্যম না হয়ে ওড়িশার সংস্কৃতি নিয়ে গবেষণারত অসিত মহান্তি উদ্ধার করতে থাকেন স্বরাজ্যের সমর্থনে নানা প্রমাণ। তুলসীদাসী রামায়ণের আগে মধ্যযুগের ওড়িয়া কবি বলরাম দাস রচিত ডান্ডি রামায়ণে (১৫ শতক) রসগোল্লার উল্লেখ খুঁজে পান তিনি। এছাড়াও ওলন্দাজ ও ফরাসিদের আগমনের আগেই যে এদেশে ছানার প্রচলন ছিল তার প্রমাণ হিসেবে ওড়িয়া ও সংস্কৃত সাহিত্য থেকে বিভিন্ন শ্লোকের উল্লেখ করেন।
ওড়িশা সরকারের তরফ থেকে আগেই দাবি করা হয়েছিল যে ১২ শতক থেকে চলে আসা জগন্নাথ দেবের মাসিবাড়ি থেকে স্বগৃহে প্রত্যাবর্তনের সময় থেকেই রসগোল্লা বিতরণের প্রথা চালু রয়েছে। কিন্তু তার সপক্ষে কোনও লিখিত প্রমাণ না দিতে পারায় জিআই ট্যাগ প্রাপ্তি থেকে সে যাত্রায় রাজ্য বঞ্চিত হয়। এই সম্মান লাভে ওড়িশার ক্ষুদ্র শিল্প কর্পোরেশনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, অন্য জায়গার রসগোল্লার থেকে গঠনগত দিক থেকে একেবারেই ভিন্ন প্রকৃতির ওড়িশার রসগোল্লা রসালো, নরম এবং মুখে দিলেই গলে যায়। অন্যদিকে বাংলার প্রতিনিধিত্বমূলক কলকাতার রসগোল্লার খ্যাতি তার স্পঞ্জের মত চরিত্রের জন্য।
'রসগোল্লা আমার' বলার আর জো রইল না বাংলার। এদিনের রায়ের পরে রসগোল্লা এখন 'আমাদের'।