
শেষ আপডেট: 19 May 2020 18:30
মঙ্গলবারই ইন্ডিয়ান মেটিওরোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছিল, উমফানের প্রভাবে ওড়িশায় তেমন ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা নেই, তবে উপকূলবর্তী ৬টি জেলায় ঘূর্ণিঝড়ের দাপট দেখা যেতে পারে। তার মধ্যে গঞ্জাম, ভদ্রক, বালাসোর, জাজপুর, কেন্দ্রপারার মতো উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব বেশি পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ওড়িশার স্পেশাল রিলিফ কমিশনার প্রদীপ জেনা বলেছেন, “ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের সময় ১৫ হাজার মানুষকে সরাতে পেরেছিলাম। এবার এক লক্ষের বেশি মানুষকে সরাতে পেরেছি। বিকেলের আগে আরও লোকজনকে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাওয়া হবে।” তবে একটা সমস্যাও আছে বলে জানিয়েছেন প্রদীপ। তিনি বলেছেন, যে এলাকাগুলিতে ঘূর্ণিঝড়ের অ্যালার্ট জারি হয়েছে সেখানে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যাও বেশি। তাই সোশ্যাল ডিস্টেন্সিংয়ের নিয়ম মেনে একসঙ্গে সকলকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তাছাড়া রাজ্যের সাইক্লোন সেন্টারগুলির বেশিরভাগই এখন কোয়ারেন্টাইন সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ৮০৯টি সাইক্লোন সেন্টারের মধ্যে ২৪২টিই কোভিড কোয়ারেন্টাইন সেন্টার হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।
ভূবণেশ্বরের রিজিওনাল মেটিরিওলজিক্যাল দফতরের ডিরেক্টর এইচআর বিশ্বাস বলেছেন, ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে গাছ উপড়ে পড়ে ইলেকট্রিক পোস্টের ক্ষতি হতে পারে। তাই সে ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে রাজ্যের সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই ইউনিটকে। ওড়িশা ডিজাস্টার র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স ও এনডিআরএফকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সমস্ত স্কুল, কলেজ বন্ধ। ঘরের বাইরে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে। সতর্কবার্তা পৌঁছে দিতে এসএমএস অ্যালার্ট এবং সাইরেন বাজানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। অন্তত ২০০ জন গর্ভবতী মহিলাকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
চন্দাবলি, বালাসোর ও ভুবণেশ্বরে জোড়ো হাওয়ার দাপট বেশি দেখা যাবে বলে সতর্ক করেছে হাওয়া অফিস। চন্দাবলিতে ৭৪ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা ও বালাসোরে ৬১ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে হাওয়ার দাপট দেখা যেতে পারে। ভুবনেশ্বর-খড়্গপুর রুটের সমস্ত ট্রেনের চলাচল আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইস্ট কোস্ট রেলওয়ে। আগামীকাল অবধি কোনও শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনও ঢুকবে না রাজ্যে।