দ্য ওয়াল ব্যুরো : সাইক্লোন ফণীর দাপটে ওড়িশায় প্রাণ হারিয়েছেন ৬৪ জন। তার মধ্যে কেবল পুরীতেই ৩৯ জন মারা গিয়েছেন। শনিবার ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে যাঁদের বাড়ি ভেঙে পড়েছে বা ভালোমতো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাঁদের নতুন করে পাকা বাড়ি বানিয়ে দেবেন।
বঙ্গোপসাগরে জন্ম হওয়া ঘূর্ণিঝড় ফণী ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটার বেগে আছড়ে পড়েছিল ওড়িশা উপকূলে। পুরী ও খুরদার যে অঞ্চল দিয়ে ঝড় গিয়েছে, সেখানে ১ কোটি ৪০ লক্ষ মানুষ বাস করেন। সেখানে ১৬ হাজার গ্রাম ও ৫১ টি শহর আছে। ওই সব অঞ্চলের মানুষ ঝড়ে কোনও না কোনওভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। গত ৪৩ বছরে কোনও গ্রীষ্মে পূর্ব উপকূলে অত শক্তিশালী ঝড় আর আসেনি।
ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক যে হিসাব করা হয়েছে, তাতে জানা যায়, ৫ লক্ষ ৮ হাজারের বেশি কাঁচা বাড়ি হয় পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে অথবা গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নবীন পট্টনায়েক জানিয়েছেন, ১৫ মে থেকে ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব করা শুরু হবে। তা শেষ হবে এক সপ্তাহের মধ্যে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্লকগুলিতে যাতে সকলে ক্ষতিপূরণ পান, সেজন্য রাজ্য প্রশাসনের উচ্চপদস্থ অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, দুর্গতদের জন্য বাড়ি তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হবে ১ জুন থেকে।
কেন্দ্রীয় সরকারও আলাদাভাবে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করবে। সেজন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের জয়েন্ট সেক্রেটারির নেতৃত্বে বিভিন্ন মন্ত্রকের প্রতিনিধিকে নিয়ে একটি টিম গঠিত হয়েছে। সেই টিম কাজ শুরু করবে ১৩ মে থেকে। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে ৬৫০ কোটি টাকা। মৎস্যজীবী ও পশুপালকরা ক্ষতিপূরণ পাবেন ৬০০ কোটি টাকা। কুটির শিল্প ও তাঁত শিল্পকে দেওয়া হবে ১০০ কোটি টাকা। অন্যান্য পেশার ক্ষতিগ্রস্ত লোককে দেওয়া হবে ২০০ কোটি টাকা।
ওড়িশা প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি নিরঞ্জন পট্টনায়েক অবশ্য অভিযোগ করেছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য যে প্যাকেজের কথা ঘোষণা করা হয়েছে, তা পাবলিসিটি স্ট্যান্ট ছাড়া কিছু নয়। তাঁর কথায়, সাইক্লোন ফণীতে যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের রান্না করা খাবার ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী দিতে ব্যর্থ হয়েছে নবীন পট্টনায়েকের সরকার। ঝড়ের পর থেকে রাজ্যের বহু এলাকা এখনও বিদ্যুৎহীন হয়ে আছে। সেজন্য বিক্ষোভও চলছে নানা জায়গায়। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কটক শহরে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ে এক বালকের মৃত্যু হয়েছে।