দ্য ওয়াল ব্যুরো: জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবা যে কোন তলানিতে ঠেকতে পারে, তারই এক টুকরো ছবি সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। দেখা যাচ্ছে, এক বৃদ্ধাকে হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন, কিন্তু মেলেনি কোনও অ্যাম্বুল্যান্স। তাই বাধ্য হয়ে, বৃদ্ধাকে কোলে নিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিচ্ছেন এক সমাজকর্মী। এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গেই আরও এক বার লগ্ন হল ওড়িশার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার হাল।
সত্যজিৎ মল্লিক নামের ওই সমাজকর্মীর অভিযোগ, বালাসোরের রেমুনা এলাকার অচ্যুতপুর গ্রামের বাসিন্দা ওই বৃদ্ধা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, কিন্তু তাঁকে হাসপাতাল পর্যন্ত আনার জন্য কোনও অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করা যায়নি। পাওয়া যায়নি অন্য কোনও গাড়িও। ফলে তিনি বাধ্য হয়ে বৃদ্ধাকে কোলে তুলে নিয়ে হাসপাতালে আসেন।
সূত্রের খবর, সাবিত্রী সাধু নামের ওই বৃদ্ধা বয়সজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। তাঁকে প্রথমে রেমুনা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। ভর্তিও করা হয়। কিন্তু অবস্থা খারাপের দিকে গেলে, বড় হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন হয়। চিকিৎসকেরা জানান, অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করে তাঁকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জেলা হাসপাতালে নিয়ে যেতে।
সত্যজিৎ মল্লিক বলেন, "আমি খবর পেয়ে ১০৮ নম্বরে কল করে আপৎকালীন অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা পাঠাতে বলি। কিন্তু আমায় জানানো হয়, কয়েকটি অ্যাম্বুল্যান্স খারাপ হয়ে পড়ে আছে, আর অন্যগুলি খালি নেই এখন। তখন গাড়িও জোগাড় করা যায়নি। কী করব বুঝতে না পেরে, আমি ওঁকে তুলে নিয়ে হাঁটতে শুরু করি।"
বেশ খানিকটা হাঁটার পরে বড় রাস্তায় পৌঁছলে গাড়ির পান তিনি। কিন্তু তার মধ্যেই তাঁর এই কাজের ভিডিও করে ফেলেন কেউ। সেটি সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করতেই ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনরা সকলেই প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন সত্যজিতের কাজে। পাশাপাশি নিন্দার ঝড়ও ওঠে, স্বাস্থ্য পরিষেবার এই বেহাল দশা দেখে।
কিন্তু হাসপাতাল থেকে বিপদের সময়ে কেন একটি অ্যাম্বুল্যান্স পাওয়া গেল না, এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি কর্তৃপক্ষ।
সত্যজিৎ আরও বলেন, "বৃদ্ধা সাবিত্রী অসহায় অবস্থায় পড়েছিলেন রেমুনা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। কোনও আত্মীস্বজনও ছিলেন না। আমায় গ্রামের একটি ছেলে খবর পাঠালে, ছুটে যাই। যেটুকু আমার পক্ষে করা সম্ভব হয়েছিল, সেটুকুই করেছি। আর কিছু নয়।"