দ্য ওয়াল ব্যুরো : বৃহস্পতিবারই নবান্ন (Nabanna) থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, দুর্গাপুজো থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত রাতের বেলায় কড়াকড়ি থাকবে না। অন্যদিকে এদিনই দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্যসচিব। তিনি বলেন, উৎসবের সময় অবশ্যই কোভিড বিধি মানতে হবে। এড়িয়ে চলতে হবে ভিড়। অকারণে রাস্তায় বেশি না বেরোনরও পরামর্শ দেন তিনি।
কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, দেশে সংক্রমণ কমেছে বটে কিন্তু এখনও নিশ্চিত হওয়ার সময় আসেনি। স্বাস্থ্যসচিব জানান, দেশের জনসংখ্যার ৬৯ শতাংশ কোভিড ভ্যাকসিনের অন্তত একটি ডোজ পেয়েছেন। দু'টি ডোজ পেয়েছেন ২৫ শতাংশ।
স্বাস্থ্যসচিবের কথায়, "আমাদের দেশের বহু অঞ্চলে জনবসতির ঘনত্ব অত্যাধিক। ওই এলাকাগুলিতে কোভিড সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া সহজ। তাই আসন্ন উৎসবের দিনগুলিতে সকলে যেন সতর্ক থাকেন"।
একইসঙ্গে সরকার জানায়, গত সপ্তাহে দেশে যতজন কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের ৫৯.৬৬ শতাংশ কেরলের বাসিন্দা। ওই রাজ্যে এখন অ্যাকটিভ কেসের সংখ্যা ১ লক্ষের বেশি। একটি মহল থেকে অভিযোগ উঠেছিল, বর্তমানে কোভিড টেস্টের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকার ওই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জানায়, দৈনিক ১৫ থেকে ১৬ লক্ষ মানুষের টেস্ট করা হচ্ছে। দেশের ১৮ টি জেলায় কোভিড পজিটিভিটি রেট পাঁচ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে। ৩০ টি জেলায় পজিটিভিটি রেট ১০ শতাংশের বেশি।
এর মধ্যে জানা যায়, মুম্বইয়ে কিং এডওয়ার্ড মেমোরিয়াল হসপিটালের ৩০ জন ছাত্রছাত্রী করোনা পজিটিভ হয়েছেন। যাঁরা করোনা পজিটিভ হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ২৮ জনই ভ্যাকসিনের দু'টি ডোজ নিয়েছিলেন। কোভিড আক্রান্তদের ২৩ জন এমবিবিএসের সেকেন্ড ইয়ারের ছাত্র। সাতজন প্রথম বর্ষের ছাত্র। আক্রান্তদের মধ্যে একজনকে সেভেন হিলস হসপিটালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা অ্যাসিম্পটোম্যাটিক। তাঁদের কোয়ারান্টাইনে যেতে বলা হয়েছে।
মেডিক্যাল কলেজের ডিন হেমন্ত দেশমুখ বলেন, কলেজের বাকি ছাত্রদেরও কোভিড টেস্ট করা হচ্ছে। এখন রোজ ২০০ থেকে ২৫০ জনের টেস্ট করা হয়। গত কয়েকমাসে করোনা সংক্রমণ কমায় দেশের নানা প্রান্তে স্কুল-কলেজ খুলতে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে ছাত্রছাত্রীদের কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার খবরও শোনা যাচ্ছে।
চলতি সপ্তাহেই বেঙ্গালুরুর এক আবাসিক স্কুলের ৫০০ ছাত্রছাত্রীর মধ্যে ৬০ জন কোভিড পজিটিভ হয়। তাদের মধ্যে দু'জনের শরীরে কোভিডের লক্ষণ দেখা গিয়েছিল। এরপরে ওই স্কুল ২০ অক্টোবর অবধি বন্ধ করে দেওয়া হয়।