
শেষ আপডেট: 17 March 2022 07:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের মাটিতে বুলেট ট্রেন (Bullet Train) চালানো সম্ভব কিনা তা নিয়ে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণো তথা বিজেপির সঙ্গে তর্কাতর্কিতে জড়ালেন তৃণমূল সাংসদ নুসরত জাহান (Nusrat Jahan)। নুসরতের মতে, ভারতের মাটি বুলেট ট্রেন চালানোর জন্যই উপযুক্ত নয়। রেলমন্ত্রীর পাল্টা বক্তব্য, এ কথা বলে দেশের মাটিকেই অপমান করেছেন নুসরত (Nusrat Jahan)। আর বিজেপির মতে, এ কথা লজ্জার। দেশের স্বাভিমানে আঘাত দিচ্ছে এ সব কথা।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছে লোকসভায়। বিতর্কে অংশ নিয়ে নুসরত জাহান (Nusrat Jahan) বলেছেন, নতুন বুলেট ট্রেন (Bullet Train) করিডরের কথা বলা হচ্ছে (পড়ুন মোদী সরকার বলছে)। কিন্তু জাপানের মতো বুলেট ট্রেন কি ভারতে চালানো সম্ভব? কারণ, আমাদের মাটি সেই ধরনের ট্রেন চালানোর জন্য ফিট নয়।
নুসরতের (Nusrat Jahan) এ কথার জবাবেই রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণো বলেন, তৃণমূল সাংসদ যে কথা বলেছেন তা খুবই লজ্জার। মা-মাটি-মানুষের পার্টির সাংসদ আমাদের মা-কেই অপমান করছেন। এর থেকে লজ্জাজনক আর কিছুই হতে পারে না। বুলেট ট্রেন (Bullet Train) চালানোর ব্যাপারে আমাদের প্রযুক্তিবিদরা আলোচনা ও গবেষণা করছেন। তাঁদের উপর আমাদের আস্থা রয়েছে। আমরা কতদিন আর বিদেশিদের উপর নির্ভর থাকব?
দেখুন সেই ভিডিও—
সংসদের মধ্যে এই তর্কাতর্কির ভিডিওকে আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়াতে শুরু করেছে বিজেপি। তাঁদের চেষ্টা এটা তুলে ধরা যে তৃণমূল সাংসদ দেশের স্বাভিমানে আঘাত করেছেন। জবাবে আবার নুসরত বলেছেন, জাপানের মতো বুলেট ট্রেন চালানোর কথা পথ সভায় শুনতে ভাল লাগে। কিন্তু দেশের মাটি যে বুলেট চালানোর জন্য উপযুক্ত নয়, সেটা বিজ্ঞান।
ভারতে বুলেট ট্রেন চালানো নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। লালু প্রসাদ যাদব যখন রেল মন্ত্রী ছিলেন, সেই সময় থেকেই এ নিয়ে প্রযুক্তিগত আলোচনা চলছে। কিন্তু প্রকল্পের খরচ, তা লাভজনক হওয়ার সম্ভাবনা, ডেডিকেটেড ট্র্যাক বানানোর জন্য জমি ইত্যাদি বিবিধ কারণে বিশেষ অগ্রগতি হয়নি।
কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকারের জমানাতেও এ নিয়ে আলোচনা এগিয়েছে অনেকটা। আবার তার পাশাপাশি বর্তমান দূরপাল্লার ট্রেনের গতি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। যেমন, বেশ কিছু ট্রেন এখন ঘণ্টায় দেড়শো থেকে ১৬০ কিলোমিটার গতিবেগে চলছে।
বহু বিশেষজ্ঞের মতে, বাস্তব হল বুলেট ট্রেন চালানো ভারতে অসম্ভব নয়। কিন্তু সমস্যা হল, তা চালু করতে যে পরিমাণ বিনিয়োগ করতে হবে তা বিপুল। কারণ এ জন্য ডেডিকেটেড ট্র্যাক প্রয়োজন হবে। অত টাকা খরচ করে বুলেট ট্রেন চালালে তার ভাড়ার বহরও তেমন হওয়া উচিত। কিন্তু তা আবার সাধারণের সাধ্যের মধ্যে থাকবে না। অর্থাৎ প্রকল্প লাভজনক ভাবে চালানো যাবে কিনা তা নিয়েই সংশয় রয়েছে। সেই কারণেই বারবার এই বিষয়টি পিছিয়ে যাচ্ছে।
বঙ্গোপসাগরে তৈরি হচ্ছে ঘূর্ণিঝড় 'অশনি', আছড়ে পড়তে পারে মঙ্গলবার