
শেষ আপডেট: 1 August 2023 11:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অভিনেত্রী ও সাংসদ নুসরত জাহানকে (nusrat jahaan) নিয়ে সোমবার সন্ধে থেকে আন্দোলিত বাংলার রাজনীতি। কারণ, বিজেপির অভিযোগ, বড় ধরনের প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বসিরহাটের তৃণমূল সাংসদ। মঙ্গলবার এ ব্যাপারে প্রশ্নের জবাবে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Subhendu Adhikari) দাবি করলেন, ওই প্রতারণার টাকাতেই সাংসদ ১ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা মূল্যের ফ্ল্যাট কিনেছেন। এ ব্যাপারে তাঁদের কাছে নথি রয়েছে বলেও দাবি করেছেন নুসরত।
তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি আইনজীবীদের পরামর্শ নিচ্ছেন। তৃণমূলও দলীয় তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এর আগে তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গে একবার বলেছিলেন, কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা প্রতারণার অভিযোগ উঠলে তাঁকেই মোকাবিলা করতে হবে।
সোমবার সন্ধেয় কয়েকজন প্রবীণকে নিয়ে আচমকা ইডির দফতরে হাজির হয়েছিলেন বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পাণ্ডা। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতারিতরা সুবিচার না পেলে পথে নামার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন তিনি। মঙ্গলবার শুভেন্দু সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ওই প্রবীণ নাগরিকরা তাঁর কাছেই অভিযোগ নিয়ে এসেছিলেন। তিনি শঙ্কুদেব পাণ্ডাকে নির্দেশ দেন, তাঁদের নিয়ে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের কাছে যেতে।
নুসরতের (Nusrat Jahan) বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০১৪ সালে একটি সংস্থা ৪২৯ জনের কাছ থেকে ৫ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা করে নিয়েছিল। সেই সংস্থার সঙ্গে নুসরত জড়িত। অভিযোগকারীদের দাবি, সমবায় ব্যবস্থার মাধ্যমে ফ্ল্যাট কেনার জন্য মেসার্স সেভেন সেন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি কোম্পানি ওই টাকা নিয়েছিল। প্রায় ৯ বছর কেটে যাওয়ার পর আজও ফ্ল্যাট পাওয়া যায়নি। তাঁদের কথায়, ওই সংস্থা দাবি জানিয়েছিল, রাজারহাট হিডকোর কাছে ফ্ল্যাট দেওয়া হবে এই ৪২৯ জনকে। তিন বছরের মধ্যেই ফ্ল্যাটগুলি হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এরপর আদালতের দ্বারস্থ হন। পরে আদালতের নির্দেশেই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। জানা যায়, মোট ৪২৯ জনের কাছ থেকে যে টাকা ওই কোম্পানির অ্যাকাউন্টে গিয়েছিল, তার থেকেই ওই কোম্পানির ডিরেক্টররা ব্যক্তিগত ফ্ল্যাট কেনেন। যার মধ্যে নুসরত জাহানও রয়েছেন বলে তাঁদের দাবি।
শঙ্কু দেব পান্ডার অভিযোগ, গড়িয়াহাট রোডে মেসার্স সেভেন সেন্স ইনফাস্ট ট্রাকচার প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি কোম্পানি আছে। সেই কোম্পানির ডিরেক্টর তৃণমূল সাংসদ নুসরত জাহান (Nusrat Jahan)। বিজেপি নেতার দাবি, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে যে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলা হয়েছিল তাই দিয়ে নুসরত নিজে পাম এভিনিউতে ফ্ল্যাট কিনেছেন। তাই বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য ইডির কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
তবে রেজিস্ট্রার অফ কোম্পানিজে দেখা যাচ্ছে সেভেন সেন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার কোম্পানিতে নুসরত জাহান বর্তমানে ডিরেক্টর নন। তিনি আগে সে রকম কোনও পদে ছিলেন কিনা তাও স্পষ্ট নয়।
বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পান্ডার দাবি, আলিপুর আদালত থেকে বারবার ডেকে পাঠানো হয়েছে নুসরত জাহানকে। কিন্তু তিনি সমন পেয়েও আদালতে যাননি। এমনকী প্রশাসনের তরফ থেকেও ওই প্রতারিত ব্যক্তিদের মামলা তুলে নেওয়ার চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
নুসরত জাহানের বিরুদ্ধে ২৪ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ! ইডির দ্বারস্থ প্রতারিতরা