দ্য ওয়াল ব্যুরো : সিবিআই বিতর্কে এবার জড়াল জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের নাম। সিবিআইয়ের জয়েন্ট ডিরেক্টর এম কে সিনহা সুপ্রিম কোর্টে বলেছেন, গোয়েন্দা সংস্থার স্পেশ্যাল ডিরেক্টর রাকেশ আস্থানার বিরুদ্ধে যখন তদন্ত হচ্ছিল, তখন নাক গলিয়েছিলেন দোভাল। তাঁর জন্যই আস্থানার বাড়িতে তল্লাশি করা যায়নি।
এদিন সিবিআইয়ের আর এক কর্তা মণীশ কুমার সিনহা দাবি করেছেন, এক ব্যবসায়ীকে গোয়েন্দা সংস্থার হাত থেকে বাঁচাতে বহু কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তার পরে আর এক সিবিআই কর্তা জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার নামেও অভিযোগ করলেন।
এম কে সিনহা আস্থানার বিরুদ্ধে তদন্তে তদারক করছিলেন। গত অক্টোবরে আরও কয়েকজন সিবিআই অফিসারের সঙ্গে তাঁকেও বদলি করা হয়। শীর্ষ আদালতে তাঁর দাবি, দোভালের ঘনিষ্ঠ দুই দালাল আস্থানার মামলায় যুক্ত হয়েছিল।
তিনি বলেন, আস্থানার বিরুদ্ধে যিনি ঘুষ খাওয়ার অভিযোগ এনেছিলেন, সেই ব্যবসায়ী সানা সতীশ বাবু জানান, কেন্দ্রীয় কয়লা ও খনি মন্ত্রী হরিভাই পার্থিভাই চৌধুরিকে কয়েক কোটি টাকা ঘুষ দিতে হয়েছিল। মন্ত্রী বলেছিলেন, এই টাকার বিনিময়ে তিনি সিবিআইকে ম্যানেজ করবেন।
হরিভাই পার্থিভাই চৌধুরি গুজরাত থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।
এম কে সিনহা সুপ্রিম কোর্টে পিটিশনে বলেছেন, আস্থানার মামলায় মনোজ নামে এক মিডলম্যান গ্রেফতার হয়েছে। মনোজের দাবি, সে নিজে, তার বাবা দীনেশ্বর প্রসাদ এবং ভাই সোমেশ অজিত দোভালের ঘনিষ্ঠ। মনোজকে যখন গ্রেফতার করে সি বি আইয়ের সদর দফতরে আনা হয়, সে রেগে গিয়ে বলে, অজিত দোভালের ঘনিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও তাকে গ্রেফতারের সাহস হল কী করে?
পরে মনোজ বলেছিল সোমেশ ও তার বন্ধু সামন্ত গোয়েল একটি গুরুত্বপুর্ণ ব্যক্তিগত ব্যাপারে দোভালকে সাহায্য করেছে।
সিনহা জানিয়েছেন, ১৫ অক্টোবর আস্থানার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়। ১৭ অক্টোবর সিবিআইয়ের তৎকালীন ডিরেক্টর অলোক বর্মা দোভালকে সেকথা জানান । সেই রাতেই দোভাল রাকেশ আস্থানাকে জানিয়ে দেন, তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে। আস্থানা অনুরোধ করেন, তাঁকে যেন গ্রেফতার না করা হয়।
সিনহার দাবি, তাঁকে বদলি করার সিদ্ধান্ত একতরফা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করাই কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্য। কারণ তাঁর তদন্তে কয়েকজন ক্ষমতাশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল।