ফের কোচবিহার জেলায় এনআরসি নিয়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়াল। এবার মাথাভাঙ্গা ২ নম্বর ব্লকের লতাপাতা অঞ্চলের বাসিন্দা, নমঃশূদ্র পরিবারের নিশিকান্ত দাসের নামে ফরেনার্স ট্রাইবুনাল-৪, কামরূপ (অসম) থেকে নোটিস পাঠানো হয়েছে।

শেষ আপডেট: 26 July 2025 12:50
ফের কোচবিহার জেলায় এনআরসি নিয়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়াল। এবার মাথাভাঙ্গা ২ নম্বর ব্লকের লতাপাতা অঞ্চলের বাসিন্দা, নমঃশূদ্র পরিবারের নিশিকান্ত দাসের নামে ফরেনার্স ট্রাইবুনাল-৪, কামরূপ (অসম) থেকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। এর আগে একই ধরনের নোটিস পেয়েছিলেন উত্তমকুমার ব্রজবাঁশি।
নোটিসে নিশিকান্তবাবুকে বিদেশি নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করে নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে বলা হয়েছে। অথচ নিশিকান্তবাবু জানিয়েছেন, তিনি বহু বছর ধরে কোচবিহারেই বসবাস করেন, তাঁর সমস্ত পরিচয়পত্র পশ্চিমবঙ্গে। রেশন কার্ড, আধার কার্ড, ভোটার কার্ড সব কিছুই রয়েছে তাঁর।
এই ঘটনার পর শুধু নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ই নয়, সংখ্যালঘু মুসলিম, রাজবংশী, ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যেও প্রবল উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে— রাজ্য সরকার ও প্রশাসন বারবার এনআরসি নেই বলে আশ্বস্ত করলেও কেন অসম থেকে এমন নোটিস পাঠানো হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের নাগরিকদের? স্থানীয় মানুষ এবং মানবাধিকার কর্মীরা এই ঘটনাকে চরম অবিচার এবং নাগরিক অধিকার হরণের সঙ্গে তুলনা করছেন। তাঁরা দাবি করছেন, যাদের জন্ম এবং বাসস্থান এই রাজ্যে, তাদের অসমের ফরেনার্স ট্রাইবুনাল থেকে এভাবে নোটিস পাঠানো সংবিধান পরিপন্থী।
এই মুহূর্তে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এলাকায় চাপা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, এবং অনেকে আইনি সহায়তা নেওয়ার কথা ভাবছেন। কোচবিহার জেলা তৃণমূল সভাপতি অভিজিৎ দেব ভৌমিক অভিযোগ করেন, অসমের বিজেপি সরকার সাধারণ মানুষের হয়রানি করাচ্ছে, আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, "আমরা ওঁর পাশে আছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের মাথার উপর আছেন। আমরা অসম সরকারকে কোনও কাগজ দেখাব না।"