দ্য ওয়াল ব্যুরো: পবিত্র রমজান মাস আসন্ন। সেই সময়ে ধর্মাচরণ করতে গিয়ে বড় জমায়েত যাতে না হয় এবং সমাজের পরস্পরের সঙ্গে যেন শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে চলে তা সুনিশ্চিত করার জন্য প্রতিটি দেশের সরকারকে সতর্ক করল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
রমজান মাস শুরু হবে ২৪ এপ্রিল। তা ২৩ মে পর্যন্ত চলবে। ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও সামাজিক মেলামেশা দুর্গাপুজোর মতই এই উৎসবের বড় অঙ্গ। রোজা রাখার পর অনেকে একসঙ্গে নমাজ পড়েন, ইফতারের সময় রোজা ভাঙেন একত্রে মিলে। শুধু মুসলমানরা নন, ইফতার অনুষ্ঠানে অনেক সময়েই অন্য সম্প্রদায়ের মানুষও নিমন্ত্রিত থাকেন। আক্ষরিক ভাবেই তা সৌভ্রাতৃত্বের পরব হয়ে ওঠে।
যে হেতু সন্ধ্যার পর রোজা ভাঙা হয়, এবং সূর্যাস্তের মধ্যেই খাবার খেয়ে নিতে হয়, তাই পৃথিবীর বহু দেশে এই রমজান মাসভর রাতের বাজার বসে। সেখানে খাবার ও অন্যান্য সামগ্রী বিক্রি হয়। স্থানীয়রা ভিড় করেন সেখানে। হু তাদের গাইডলাইনে বলেছে, এই পবিত্র অনেক মুসলমান মসজিদে যাওয়া বাড়িয়ে দেয়। একসঙ্গে অনেক মানুষ প্রার্থনা করেন। বিশেষ করে শেষ দশ দিনে উপস্থিতির সংখ্যা বহু মসজিদে বেড়ে যায় উল্লেখযোগ্য হারে।
কিন্তু হু-র বক্তব্য, এ বছর তা চলবে না। যে হেতু করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এক ব্যক্তি আর এক ব্যক্তির মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এবং যে হেতু এর সংক্রমণের হার খুব বেশি। তাই অন্য বছরের মতো এবারও রমজানের সময়ে সামাজিক মেলামেশা করলে ঝুঁকি রয়েছে। বরং শারীরিক দূরত্ব রাখতে হবে। দুই ব্যক্তির মধ্যে অন্তত ১ মিটার বা তিন ফুটের দূরত্ব রাখতে হবে।
হু সরকারকে জানিয়েছে, রমজান মাসে কী করা যাবে, আর কী করা যাবে না—তা পরিষ্কার ভাবে সবাইকে জানিয়ে দিতে হবে। বিশ্বজুড়ে প্রতিটি সরকারকেই ভাবতে হবে যে এ ব্যাপারে কতটা সুচারু ভাবে বার্তা পৌঁছে দেওয়া যায়। বিশ্ব সংস্থার মতে, এ ব্যাপারে জাতীয় নীতি নিয়ে তার বাস্তবায়ন করতে হবে।
হু-র এই নির্দেশিকার আগে দেশের বহু ইমামদের সংগঠনও এ ব্যাপারে বার্তা দিতে শুরু করেছে। তারা মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করছে যে, ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও গোটা সমাজ তথা দেশের সুরক্ষার জন্যই এবার রমজানের সময় আগের মতো মেলামেশা করা যাবে না।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ধর্মান্ধতা ও কট্টরপন্থী ধর্মীয় নেতা প্রতিটি ধর্মেই রয়েছেন। অনেক সময়েই তাঁরা মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছেন। এই পরিস্থিতি ইমামদের সংগঠন যেরকম ইতিবাচক ভূমিকা নিয়েছে তা প্রশংসার যোগ্য।