
মুখ্যমন্ত্রী, বিচারপতি ও সঞ্জয় রায়।
শেষ আপডেট: 20 January 2025 17:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর কাণ্ডে খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়ের অপরাধ বিরলের মধ্যে বিরলতম বলে মনে করেনি শিয়ালদহ আদালত (TG Kar Verdict)। বিচারক অনির্বান দাস তাই সঞ্জয়কে আজীবন কারাবাসের সাজা শুনিয়েছেন। আদালতের এই রায় ঘোষণা হতেই চরম হতাশা প্রকাশ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
উত্তরবঙ্গ সফরে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "ক'দিন আগে আমরা তিনটে মামলায় ফাঁসির অর্ডার করিয়ে দিয়েছি। ৫৪ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে ফাঁসির অর্ডার করিয়ে দিয়েছি। এই কেসে আমাদের সকলের দাবি ছিল, ফাঁসি হোক। বিচারের রায় নিয়ে কিছু বলব না ঠিকই। তবে আমাদের হাতে কেস থাকলে অনেকদিন আগেই ফাঁসির অর্ডার করিয়ে দিতে পারতাম।”
এই প্রসঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “আমি মা-বাবাকে বলেছিলাম সময় দিন। কিন্তু তার আগেই সিবিআই-এর হাতে তদন্ত চলে গেল। সিবিআই কী করেছে বলতে পারব না, তবে আমি এই সাজায় সন্তুষ্ট নই। ফাঁসি হলে মনকে সান্ত্বনা দিতে পারতাম।"
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এদিন প্রশ্ন করা হয়, সিবিআইয়ের আইনজীবীর কি কোনও খামতি ছিল? সিবিআইয়ের তদন্তে কি কোনও ফাঁক ছিল বলে মনে করেন?
জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “তা আমি বলতে পারব না। ওরা কী করেছে। তবে আমি তো একজন আইনজীবী। এই ধরনের নরপিশাচদের চরম শাস্তি হওয়া উচিত। তাই বলছি, ফাঁসি হলে মনকে সান্ত্বনা দিতে পারতাম”।
তাৎপর্যপূর্ণ হল, কদিন আগেই জয়নগরে এক নাবালিকাকে খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় ফাঁসির সাজা শুনিয়েছে আদালত। তা ছিল এক প্রকার রেকর্ড। জয়নগরের মহিষমারিতে নাবালিকাকে খুন ও ধর্ষণের ঘটনার ৬২ দিনের মধ্যে ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে রায় ঘোষণা করা হয়। শুধু ওই মামলা নয়, এর পর এই রাজ্যেই আরও দুটি খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় আদালত ফাঁসির সাজা শুনিয়েছে। সেই তুলনায় আরজি কর কাণ্ডের রায় বহু মানুষের কাছে হতাশাজনক তো বটেই।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন বোঝাতে চেয়েছেন, তাঁর হতাশাও কম নয়। তবে অনেকের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কৌশলে সিবিআইয়ের প্রতি অনাস্থা উস্কে দিতে চেয়েছেন।
আরজি কর কাণ্ডের পর নির্যাতিতার পরিবারকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দশ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার চেষ্টা করেছিল সরকার। তা নিয়ে বিস্তর বিতর্কও হয়েছিল। এদিন বিচারক জানিয়েছেন, মৃতার পরিবারকে ১৭ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। সে বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য এদিন কিছু বলতে চাননি।