দ্য ওয়াল ব্যুরো : আমি এখনও কংগ্রেসম্যান। বুধবার এমনই মন্তব্য করলেন রাজস্থান কংগ্রেসের বিক্ষুব্ধ নেতা শচীন পাইলট। তিনি বিদ্রোহ করার পরেই শোনা গিয়েছিল, বিজেপির সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ আছে। তিনিও মধ্যপ্রদেশের জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার মতো অনুগামীদের নিয়ে বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। কিন্তু এদিন সকালে শচীন পাইলট সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে বলেন, তাঁর বদনাম করার জন্যই বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগের কথা রটানো হচ্ছে।
তাঁর কথায়, "আমি বিজেপিতে যোগ দিচ্ছি না। আমি পরিষ্কার করে একটা কথা বলতে চাই, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কোনও ইচ্ছাই আমার নেই। গান্ধী পরিবারের চোখে আমাকে ছোট করার জন্যই রটানো হচ্ছে, আমি বিজেপিতে যোগ দিতে পারি।"
মঙ্গলবারই তাঁকে রাজস্থানের উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এদিন শচীন বলেন, "আমি এখনও কংগ্রেস দলের সদস্য।"
তিনি যখন প্রথমবার কংগ্রেসের টিকিটে এমপি হন, তখন তাঁর বয়স ছিল ২৬। তিনি কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি রাহুল গান্ধীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ছিলেন। ২০১৯ সালে নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর রাহুল কংগ্রেস সভাপতির পদ ছেড়ে দেন। তখন দলে কোণঠাসা হয়ে পড়েন শচীন। এর আগে ২০১৮ সালে তাঁকে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রীর পদটি অশোক গেহলোটকে ছেড়ে দিতে হয়। তখন থেকেই শচীন অসন্তুষ্ট ছিলেন।
গত রবিবার দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন শচীন। এর পরেই গেহলোট সরকার সংকটে পড়ে।
২০০ আসনবিশিষ্ট রাজস্থান বিধানসভায় কংগ্রেসের বিধায়ক ছিলেন ১০৭ জন। ১৩ জন নির্দল বিধায়ক কংগ্রেসকে সমর্থন করেছিলেন। এছাড়া সরকারের পক্ষে ছিলেন ছোট দলগুলির আরও পাঁচজন বিধায়ক। কিন্তু মঙ্গলবারের পর মনে হচ্ছে, সরকারের পক্ষে আছেন ৯০ জন কংগ্রেস বিধায়ক, সাতজন নির্দল বিধায়ক এবং ছোট দলগুলির পাঁচ বিধায়ক।
সোমবার রাতে রাজস্থানের পর্যটন মন্ত্রী বিশবেন্দ্র সিং সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ১০ সেকেন্ডের ভিডিও পোস্ট করেন। তাতে দেখা যায়, ১৬ জন বিধায়ক বসে আছেন। সেখানে অবশ্য শচীন পাইলটকে দেখা যাচ্ছে না। ভিডিও-র নীচে লেখা হয়েছে, ‘ফ্যামিলি’। একটি সূত্রে খবর শচীন পাইলটের সঙ্গে এখন আছেন ২০ জন বিধায়ক। তাঁদের ১৭ জন কংগ্রেস নেতা। বাকিরা নির্দল। বিদ্রোহী কংগ্রেস বিধায়কদের মধ্যে দু’জন রাজস্থানের মন্ত্রী।
ভারতীয় ট্রাইবাল পার্টি নামে এক ছোট দলের দু’জন বিধায়ক আছেন রাজস্থানে। ওই দল কংগ্রেসকে সমর্থন করেছিল। কিন্তু কয়েকদিন আগে তারা সমর্থন তুলে নিয়েছে। দুই বিধায়ককে বলা হয়েছে, নিরপেক্ষ থাকতে হবে। অশোক গেহলোট বা শচীন পাইলট, কাউকে সমর্থন করা চলবে না। দুই বিধায়ক অবশ্য ইঙ্গিত দিয়েছেন, তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে থাকতে পারেন।