.webp)
শেষ আপডেট: 10 November 2023 15:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গ্রেফতারের পর গত শুক্রবার আদালতেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন রেশন দুর্নীতিতে ধৃত রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী তথা বর্তমান বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। বেসরকারি হাসপাতালের তত্ত্বাবধানে প্রায় ৭৬ ঘণ্টার চিকিৎসা শেষে সোমবার রাতে ১০টা নাগাদ কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে সিজিওতে আনা হয় মন্ত্রীকে।
তারপর ২৪ ঘণ্টা অতিক্রান্ত। রেশন কেলেঙ্কারিতে এই প্রথম রাজ্যের কোনও মন্ত্রী ইডি হেফাজতে। প্রথম ২৪ ঘণ্টা কেমন কাটল মন্ত্রীর? ঘরের বিছানার পরিবর্তে হেফাজতের মেঝেতে পাতা গদিতে! রাত কাবারের পর দিনভর কী কী করলেন মন্ত্রীমশাই? ‘ভিভিআইপি অভিযুক্ত’কে কী কী খেতে দিলেন তদন্তকারীরা? জেরায় কি মন্ত্রী তদন্তকারীদের সাহায্য করেছেন? মফঃস্বল থেকে কলকাতা, চা দোকান থেকে ট্রেনের বগি, সর্বত্রই যেন বালুময়!
ডায়াবেটিস-সহ একাধিক রোগে আক্রান্ত মন্ত্রী। সদ্য হাসপাতাল থেকে ফিরেছেন। ফের যাতে নতুন করে তাঁর কোনও শারীরিক সমস্যা না হয়, তাই মন্ত্রীকে রাখা হয়েছে সিজিও-র একটি ঘরে। জেরার সময়ে অন্য একটি রুমে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, জেরা পর্বের পুরোটাই ভিডিওগ্রাফি করা হচ্ছে। তবে জেরায় সেই অর্থে এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেননি জ্যোতিপ্রিয় ওরফে বালু!
জানা গেছে, এদিন দুপুর ১২টার কিছু পরে মন্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন তদন্তকারীরা। প্রথম দফায় রেশন দুর্নীতি সংক্রান্ত ১০টি প্রশ্ন রাখা হয়েছিল। দিল্লি সদর দফতর থেকে প্রশ্ন তালিকা পাঠানো হয়েছিল বলে সূত্রের খবর। তবে জেরায় মন্ত্রী বিশেষ সহাযোগিতা করছেন না বলে ইডির সূত্রের দাবি।
২০১৭ সাল থেকে ২০১৯ সালের মাঝেই রেশন কেলেঙ্কারির অভিযোগে মোট তিনটি অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। ওই সময়ে খাদ্য দফতরের তরফে আদৌ কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল কি না, পদক্ষেপ না নেওয়া হয়ে থাকলে তার কারণ কী, এদিন এই বিষয়ে মন্ত্রীর কাছে জানতে চান তদন্তকারীরা। সূত্রের খবর, ‘অতদিন আগের কথা তাঁর মনে নেই’ বলে তদন্তকারীদের জানান জ্যোতিপ্রিয়। কোনও কোনও প্রশ্নের জবাবে অবশ্য বলেছেন, "আমি জানি না, আপ্ত সহায়ক জানেন।"
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রের খবর, প্রশ্নের বিশেষ কোনও উত্তর দিতে না চাইলও খাওয়া দাওয়াতেও অবশ্য বিশেষ সমস্যা করছেন না মন্ত্রীমশাই। ডায়াবেটিস সহ একাধিক সমস্যা রয়েছে জ্যোতিপ্রিয়র। রয়েছে রক্তচাপ, সুগারের সমস্যাও। সেদিকে খেয়াল রেখে মন্ত্রীকে এদিন নিরামিষ খাবার দেওয়া হয়েছিল। প্রাতঃরাশে মন্ত্রীকে দেওয়া হয়েছিল চা, ক্রিম ক্রেকার বিস্কুট, পাউরুটি। দুপুরের পাতে ছিল অল্প ভাত, ডাল, দু’টো ছোট রুটি, পাঁচমেশালী নিরামিষ তরকারি। সন্ধেয় দেওয়া হয়েছিল, অল্প মুড়ি।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে বলা হচ্ছে, খাবারে বিশেষ ‘না’ নেই মন্ত্রীমশাইয়ের। সমস্যা কেবল জবাবের ক্ষেত্রেই!