দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০ লাখ ভারতীয়কে টার্গেট করেছে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা। এমনই সতর্কবার্তা দিয়েছে সিঙ্গাপুরের সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থা সাইফার্মা। করোনা ভাইরাস নিয়ে প্রচারের আড়ালে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা শুধু ভারত নয়, আরও পাঁটটি দেশে সাইবার হামলা চালাতে পারে। এমনই আশঙ্কার কথা জানিয়েছে সিঙ্গাপুরের ওই সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা।
আশঙ্কা প্রকাশ করে সিঙ্গাপুরের ওই সংস্থা জানিয়েছে, "আর্থিক ভাবে লাভবান হওয়াই লক্ষ্য নিয়ে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা। তাদের লক্ষ্য বহু মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করা। এর জন্য এরা মেল করে একটি ওয়েবসাইটে যেতে বলবে ইমেল ব্যবহারকারীদের। যাঁরা সেটা করবেন তাঁদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য দিতে বলা হবে।
সিঙ্গাপুরের ওই সংস্থা জানিয়েছে, এই হ্যাকাররা লাজারাস গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত। তারা ভারত ছাড়াও, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও ব্রিটেনের ৫০ লক্ষেরও বেশি ব্যবসায়ী ও অন্য পেশার লোকজনকে টার্গেট করেছে। এই বিশাল সংখ্যক মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়াই তাদের লক্ষ্য।
সূত্রের খবর, লাজারাস গ্রুপকে নিয়ন্ত্রণ করে উত্তর কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা। এই গ্রুপের অতীত ইতিহাস যথেষ্টই সন্দেহজনক। ২০১৪ সালে সোনি পিকচার্স এন্টারটেইনমেন্টে সাইবার হামলার সঙ্গে এদের যোগ পাওয়া যায়। এছাড়াও ২০১৭ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনে সাইবার হামলা চালানোর পিছনেও এই গোষ্ঠীর হাত ছিল। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় এটিএম তথ্য হাতানোর পিছনেও উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররাই ছিল বলে জানা যায়।
সাইফার্মা দাবি করেছে, দক্ষিণ কোরিয়ার ওই হ্যাকাররা ইতিমধ্যেই জাপানের ১১ লক্ষ, ভারতের ২০ লক্ষ এবং ব্রিটেনে ১ লক্ষ ৮০ হাজারের বেশি ব্যক্তির ই-মেল আইডি-র তথ্য পেয়ে গিয়েছে। এদের বেশির ভাগই ব্যবসায়ী বলে দাবি করা হয়েছে। ওই হ্যাকাররা সিঙ্গাপুরের ৮ হাজার সংস্থায় সাইবার হামলা চালাতে পারে বলেও আশঙ্কা
সিঙ্গাপুরের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা সাইফার্মার প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও কুমার রীতেশ জানিয়েছেন, "ওই হ্যাকারদের বিষয়ে সিঙ্গাপুর, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাকে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছি আমরা। ছয় দেশই এই সতর্কবার্তা পেয়ে তদন্ত শুরু করেছে।"
সংস্থার আরও দাবি, গত কয়েক মাস ধরেই করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত বিভিন্ন ভুয়ো ই-মেল পাঠাচ্ছে বিভিন্ন সংস্থা। এগুলি সবই সাইবার হামলার অংশ। এর উপরে নজর রাখতে গিয়েই ছ'টি দেশের উপরে সাইবার হামলার আশঙ্কার খবর মিলেছে।