
শেষ আপডেট: 8 April 2023 10:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরমাণু অস্ত্রবহনে সক্ষম এই ড্রোন জলের নীচে যে কোনও সাবমেরিনকে ধ্বংস করে দিতে পারে। এই ড্রোনে বিস্ফোরণ হলে যে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ হয় তা উপকূলের কাছে থাকা শত্রু বাহিনীর যুদ্ধজাহাজকেও তছনছ করে দিতে পারে। এমনই পরমাণু শক্তিচালিত ড্রোনের পরীক্ষা করছেন কিম জঙ উনের (Kim Jong-Un) বিজ্ঞানীরা (North Korea)। আমেরিকাকে বার্তা দিতেই এই তেজস্ক্রিয় আন্ডার ওয়াটার ড্রোন (nuclear attack ‘drone’) পরীক্ষা করা হয়েছে বলে কূটনৈতিক মহলের দাবি। এর ফলে জলের বাস্তুতন্ত্র নষ্ট হতে পারে। জলের তলায় শুরু হতে পারে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ। ফলে ভয়ঙ্কর সুনামি আছড়ে পড়তে পারে।
এই নিয়ে দ্বিতীয়বার পারমাণবিক ড্রোনের পরীক্ষা করল উত্তর কোরিয়া (North Korea)। হায়েল-১ এর পরে আরও বেশি রেঞ্জের হায়েল-২ পারমাণবিক ড্রোনের পরীক্ষা চলছে সমুদ্রের নীচে। শনিবার এই ড্রোনের পরীক্ষা করে শক্তিপ্রদর্শনের চেষ্টা করলেন প্রশাসক কিম জং উন।

এই ড্রোনের রেঞ্জ হাজার কিলোমিটারের বেশি। সমুদ্রের জলের নীচে কালো রঙের টর্পেডোর আকারে তৈরি করা হয়েছে এই ড্রোন। হাজার কিলোমিটার দূরে থাকা লক্ষ্যবস্তুকেও নিমেষে ধ্বংস করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ড্রোনের হামলায় তেজষ্ক্রিয় (রেডিও অ্যাক্টিভ) সুনামিও হতে পারে। যা বিশ্বের যে কোনও সমুদ্রবন্দর, নৌসেনা ঘাঁটিকে নিমেষের মধ্যে ধ্বংস করে দেবে। উপকূলীয় অঞ্চলগুলিকে ছারখার করে দেবে। অসংখ্য মানুষের মৃত্যু হবে।
ভারতের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র এস-৪০০ আসছে ২০২৫-এই, চিন-পাকিস্তানের তুলনায় আরও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা
উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলে এই ড্রোনের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। জলপথ দিয়ে লুকিয়ে চালানো হামলা আটকাতে এই আন্ডার ওয়াটার স্ট্র্যাটেজিক অস্ত্র পরীক্ষা করা হয়েছে। শত্রুপক্ষের নৌবাহিনী আক্রমণ ঠেকাতে রেডিও অ্যাক্টিভ সুনামি তৈরি করবে এই ড্রোন। তা ধ্বংস করবে শক্রপক্ষের নৌবাহিনী ও তাদের নৌবন্দরকে।
উত্তর কোরিয়ার (North Korea) যাবতীয় খবরাখবর প্রকাশ্যে আনে আমেরিকা ও দক্ষিণ কোরিয়া। কিমের দেশে কী হচ্ছে তা দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যম সূত্রেই জানা যায়। এ বার দক্ষিণ কোরিয়ার একটি মানবাধিকার সংস্থা দাবি করেছে, উত্তর কোরিয়ার পাংগেই-রি পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রে এত বেশি পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা চলছে যে আশপাশের এলাকায় ভূগর্ভস্থ জলে তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে গেছে। সেইসব তেজস্ক্রিয় পদার্থ জলবাহিত হয়ে ক্ষেতের ফসলেও ঢুকছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উত্তর কোরিয়ার সীমান্তবর্তী দেশগুলো দাবি করেছে, প্রায় চোরাপথে উত্তর কোরিয়া থেকে ফসল, আনাজপাতি ও অন্যান্য জিনিসপত্র কাঁটাতার পেরিয়ে চলে আসে। যদি তেজস্ক্রিয় বিকিরণ শুরু হয় তাহলে ফসল ও জল মারফৎ তা অন্য দেশেও ছড়িয়ে পড়বে। মারাত্মক প্রাণহানি হবে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, কিম জং উনের হাতে প্রায় ১২ লক্ষ সেনা আছে। রিজার্ভে রয়েছে ৭৭ লক্ষ সেনা। পাশাপাশি, ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে ক্রমাগত শান দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা বাড়িয়ে গিয়েছে। এখন পরমাণু অস্ত্র নিয়েও ক্রমাগত পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে উত্তর কোরিয়ায়।