দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা-সচেতনতায় এক অভিনব উদ্যোগ নিলেন পূর্ব বর্ধমানের মেমারির বাসিন্দা একদল যুবক। তবে অভিনব হলেও, এমনটা একেবারেই অবৈজ্ঞানিক বলেই দাবি করছেন বিশেষজ্ঞরা। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রুখতে মাস্ক পরার যে বার্তা, তার আরও প্রচার ও প্রসারের উদ্দেশে মাস্ক পরে ফুটবল খেলতে হবে, এমন একটি ম্যাচ আয়োজন করেন একদল যুবক। যদিও সচেতনতার বার্তা হিসেবে গ্রহণযোগ্য হলেও, খেলাধুলোর সময়ে মাস্ক পরার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি রীতিমতো প্রশ্নের মুখে।
সেই মার্চ মাস থেকে টানা লকডাউন চলেছে রাজ্যে তথা দেশে। তার পরে আনলক শুরু হলেও, ফেল দফায় দফায় লকডাউন হয়েছে। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে এখনও অনেক দেরি। ফলে এত মাস ধরে ঘরে বন্দি থেকে থেকে ক্লান্ত সকলেই। বিশেষ করে শিশু কিশোরদের অবস্থা যেন আরও অসহায়।
তাই অনেকেই বিধিনিষেধ ভুলে বিকেলে মাঠে নেমে পড়ছে ব্যাট বা বল হাতে। অভিভাবকরা মাস্ক, স্যানিটাইজার বা গ্লাভসের ব্যবহার নিয়ে ছোটদের সচেতন করলেও খেলার মাঠে সেসব পাঠ শিকেয় উঠছে প্রায়। কিন্তু বিভিন্ন মাঠে প্রতিদিন বিকেলে বহু বাচ্চা খেলতে আসে একসঙ্গে। সেখান থেকে ভয় থেকই যায় সংক্রমণের।
তাই এ ব্যাপারে সচেতনতার পাঠ দিতে খেলার মাঠকেই বেছে নিল মেমারির পাল্লারোডের একদল যুবক। মাস্ক আর গ্লাভস পরে যে ফুটবল, ক্রিকেট কিংবা ভলিভল খেলা সম্ভব, তা বোঝাতেই রবিবার বিকেলে প্রদর্শনী ম্যাচের আয়োজন করা হয়। প্রদর্শনী ম্যাচের বিজেতাদের পুরস্কারের নামগুলি রাখা হয়, 'মাস্ক উইনার্স কাপ', 'স্যানিটাইজার রানার্স কাপ', 'গ্লাভস থার্ড পজিসন কাপ'। এই খেলায় অংশ নেয় পাল্লারোড পল্লিমঙ্গল সমিতি, পাল্লা ইচ্ছেডানা কোচিং ক্লাব ও রসুলপুর জয়যাত্রী সংঘ। প্রত্যেক খেলোয়ার মাস্ক ও গ্লাভস পরে মাঠে নামেন।
ম্যাচের উদ্যোক্তা সন্দীপন সরকার বলেন, সাধারণের মধ্যে মাস্ক-সচেতনতা বাড়াতেই এই উদ্যোগ। তবে এদিন খেলার মাঠে দর্শকদের দেখা যায়নি তেমন। ভিড় না করার জন্যই কার্যত ফাঁকা মাঠে খেলার আয়োজন করা হয়। তবে এভাবে মাস্ক পরে খেলা যায় নাকি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।
যেমন স্পোর্টস মেডিসিনের বিশিষ্ট চিকিৎসক তথা ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের অন্যতম কর্তা ডক্টর শান্তিরঞ্জন দাশগুপ্ত বলেন, “ফুটবলের মতো একটা শারীরিক পরিশ্রম ও বডি কনট্যাক্ট গেমে এমনটা একেবারেই বিজ্ঞানসম্মত নয়। করোনা আবহে পৃথিবীর যেখানে যেখানে খেলা হচ্ছে কোথাও দেখবেন না মাস্ক পরে খেলোয়াড়রা নামছেন। যেখানে দৌড় আর দমটাই মৌলিক শক্তি, সেখানে কখনওই মাস্ক ব্যবহার করা যায় না।”
তিনি আরও বলেন, “তার চেয়ে অনেক বেশি বিজ্ঞানসম্মত হতো যদি উদ্যোক্তারা খেলোয়াড়দের মাঠে নামানোর আগে অ্যান্টিবডি টেস্ট করে নিতেন।”