দ্য ওয়াল ব্যুরো : পশ্চিম মেদিনীপুরের নিজামপুর গ্রামের বাসিন্দা গণেশ জানা গত ২২ মার্চ মুম্বই থেকে ফেরেন। বাড়ি ফিরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। মঙ্গলবার তাঁর শরীরে করোনা পজিটিভ মিলল।
নিজামপুর গ্রামটি দাসপুর ১ ব্লকের নন্দনপুর ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত। গণেশ জানার বয়স ৩০ বছর। বাড়ি ফেরার পর ২৪ মার্চ থেকে তাঁর জ্বর ও সর্দি-কাশি শুরু হয়। প্রথমে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় ঘাটাল সুপার ফেসিলিটি হাসপাতালে। পরে নিয়ে যাওয়া হয় মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজে। তাঁর লালারসের নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছিল। এদিন সকালে জানা যায়, তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।
এছাড়া রাজ্যে আরও দু'জনের শরীরে করোনাভাইরাস পজিটিভ ধরা পড়েছে। টালিগঞ্জের এক মহিলা ঢাকুরিয়া আমরি হাসপাতালে ভর্তি আছেন তার শরীরেও নাভেল করনা ভাইরাসের সংক্রমণ মিলেছে এসএসকেএমের পরীক্ষাগারে। পঞ্চাশের বেশি বয়স এক ব্যক্তি ভর্তি আছেন সল্টলেক আমরি হসপিটালে তার শরীরেও সংক্রমণ মিলেছে।
সোমবারই করোনা সংক্রমণ নিয়ে রাজ্যের হাসপাতালগুলির সঙ্গে এবং স্বাস্থ্যকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন করেছিল রাজ্য সরকার। সেখানেই সকলকে আশ্বস্ত করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে মনে করিয়ে দেন, আগামী দু’সপ্তাহ খুব সাবধানে থাকতে হবে।
তিনি জানান, রাজ্যে যাঁরা করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে তিন জনের রিপোর্ট একাধিক বার নেগেটিভ এসেছে। অর্থাৎ সেরে উঠেছেন তাঁরা। আগামী কাল আবার রিপোর্ট নেগেটিভ এলে, ছেড়ে দেওয়া হবে হাসপাতাল থেকে। এই কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কোনও কারণ ছাড়াই অনেকে প্যানিক করছেন। সব সর্দি-জ্বর করোনা নয়।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানান, সাধারণ সুস্থসবল মানুষ চট করে করোনায় সংক্রামিত হন না সাধারণত। যাঁদের ক্রনিক অসুখ আছে, ডায়াবেটিস বা রক্তচাপের সমস্যা আছে, শ্বাসকষ্ট আছে, নিউমোনিয়ার ধাত আছে, কিডনি বা লাংসের অসুখ রয়েছে, তাঁদের সম্ভাবনা একটু বেশি। বাকিদের এত ভয় পাওয়ার কারণ নেই। অত চিন্তা করার কারণ নেই।
মন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, আগামী দু’সপ্তাহ খুব খুব জরুরি সময়। এই সময়টা সব রকম অনুশাসন মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাহলেই করোনা এড়িয়ে সুস্থ থাকা যেতে পারে। বারবার হাত ধোয়ার কথা মনে করিয়ে দেন তিনি। গ্লাভ্স বা মাস্ক দীর্ঘ সময় ধরে সাবানে ধুতে বলেন।
এছাড়াও তিনি আশ্বাস দেন, মোবাইল ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। খুব বাড়াবাড়ি না হলে, অঙ্গ কাজ করা বন্ধ না করে দিলে, এত ভয়ঙ্কর নয় এই অসুখ।