দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিডের ধাক্কায় মুখ থুবড়ে পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতি। অনেকের বক্তব্য, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সারা দুনিয়ার অর্থনীতিতে এত বড় আঘাত এর আগে আসেনি। বহু ডাকসাইটে সংস্থাও ধাক্কা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। চলছে ছাঁটাইও। এর মধ্যেই তথ্য প্রযুক্তি সংস্থা কগনিজেন্টের কর্মীদের একাংশ অভিযোগ করছেন, ফোন করে চাকরি ছাড়তে বলছে ম্যানেজমেন্ট। তাঁদের অভিযোগ, একরকম হুমকির সুরেই সংস্থার তরফে বলা হচ্ছে তিন মাসের প্যাকেজ নিয়ে ইস্তফা দিয়ে দিন, নইলে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে।
এ ব্যাপারে সিটিএস (কলকাতা) কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁদের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সংস্থার অন্যতম এইচআর পাপড়ি চক্রবর্তীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "এ ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারব না। আপনি হর্ষ বঢড়ার সঙ্গে যোগাযোগ করুন।" কিন্তু তাঁরও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
কগনিজেন্টের কর্মী মিতালী ভট্টাচার্য (নাম পরিবর্তিত) বলেন, "আমি যে প্রোজেক্টে ছিলাম সেটা একটা ব্রিটেনের বিমান সংস্থার প্রোজেক্টে। এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে সেটা বন্ধ হয়ে যায়। আমাকে বেঞ্চে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তারপর আমি সংস্থার পোর্টালে অন্য প্রোজেক্ট খুঁজি। কিন্তু কোথাও আমার জায়গা হয়নি। এখন আমাকে বলা হচ্ছে আমি প্রোজেক্ট খুঁজে পাইনি।" তিনি আরও বলেন, "আমার কাজ তো প্রোজেক্ট খোঁজা নয়। সংস্থার দায়িত্ব আমায় নির্দিষ্ট প্রোজেক্টে যুক্ত করা।"
মিতালী জানিয়েছেন, তাঁকে এর মধ্যে একদিন ফোন করে ম্যানেজমেন্টের তরফে বলা হয়, প্যাকেজ নিয়ে ইস্তফা দিতে। এবং এও নাকি বলা হয়, এই প্রস্তাব না মেনে নিলে ফল ভাল হবে না।
একই অভিযোগ করেন সিটিএসের বানতলা ক্যাম্পাসের কর্মী জয় দাশগুপ্ত (নাম পরিবর্তিত)। তিনি বলেন, রীতিমতো হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ছাঁটাই করার জন্য ম্যানেজমেন্ট কার্যত উঠেপড়ে লেগেছে।
কর্মীদের বক্তব্য, আইনি পথে ছাঁটাই করতে হলে অনেক বেশি টাকার ক্ষতিপূরণ প্যাকেজ দিতে হবে কোম্পানিকে। তা এড়াতেই ফোন করে নরমেগরমে বিষয়টা করতে চাইছে ম্যানেজমেন্ট।
কিন্তু কোনও কর্পোরেট সংস্থা কি এভাবে ইস্তফা দেওয়ার কথা বলতে পারে? তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার কর্মীদের সংগঠন ফোরাম ফর আইটি/আইটিইএস এমপ্লয়িজের কলকাতা চ্যাপ্টারের সভাপতি দীপ্তিমান সেনগুপ্ত বলেন, "আমরা এই অভিযোগ পাচ্ছি। আমরা প্রতিবাদ জানাচ্ছি। কর্মীদের বলেছি ঐক্যবদ্ধ হয়ে এর বিরুদ্ধে লড়তে হবে। ম্যানেজমেন্টের এই হিটলারি কায়দার কাছে কোনও অবস্থাতেই মাথা নোয়ানো যাবে না।" তিনি আরও বলেন, তাঁরা সংগঠনের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও লেবার কমিশনারকে পুরো বিষয়টা জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন তোলেননি। এসএমএস করা হলেও তার জবাব দেননি।
তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে ভিন রাজ্যে চাকরি হারিয়ে যাঁরা বাংলায় ফিরেছেন তাঁদের জন্য কর্মভূমি নামের একটি পোর্টাল সম্প্রতি শুরু করেছে নবান্ন। তাতে কাজ হারানো কর্মীরা সেখানে রেজিস্ট্রেশন করে নতুন কাজের সুযোগ পাবেন। সরকার গোটা ব্যাপারটা সমন্বয় করবে। সাংবাদিক বৈঠকে এমনই বলেছিলেন অর্থমন্ত্রী তথা শিল্পমন্ত্রী অমিত মিত্র। সিটিএসের এই ফোনের কথা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে আইটি কর্মীদের মধ্যে। অন্য সংস্থার কর্মীরাও আশঙ্কায় রয়েছেন, এই বুঝি তাঁদের কাছেও ফোন এল। তাই তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের দাবি, গোটা বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করুক নবান্ন। গুরুত্ব দিয়ে দেখুন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।