দ্য ওয়াল ব্যুরো, আলিপুরদুয়ার: এখনও ছাত্রজীবন শেষ হয়নি, সংস্কৃত নিয়ে পড়াশোনা করছেন। তবে নজর কেড়েছেন অন্য কারণে। এক মিনিটে তিনি দাঁত দিয়ে ছাড়াতে পারেন পাঁচটি ঝুনো নারকেল।
ফালাকাটা কলেজের সংস্কৃত অনার্সের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র বিশ্বজিৎ বর্মন। তাঁর বাবা কৃষিকাজ করেন। বছর সাতেক বয়স থেকে যখন দাঁত দিয়ে নারকেল ছাড়ানো শুরু করেন বিশ্বজিৎ, তখন সকলেই তাঁকে নিষেধ করতেন। কিন্তু ফালাকাটার ডালিমপুরের বাসিন্দা বিশ্বজিৎ কারও কথায় ভ্রুক্ষেপ না করে সেই কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন। নেশা ধরে যায় তাঁর। এখন সেই নেশায় তাঁকে পরিচিত করেছে জেলা তো বটেই, জেলার বাইরেও।
তাঁর কথায়, “এখন আমি এক মিনিটে পাঁচটা নারকেল ছাড়াতে পারি দাঁত দিয়ে। গতি বাড়ানোর চেষ্টা করছি, আমার বিশ্বাস এক মিনিটে আটটি নারকেল ছাড়ানো সম্ভব। তবে নারকেল কিনে তা ছাড়ানো খরচসাপেক্ষ। কেউ যখন অনুষ্ঠানে আমাকে এটা করে দেখাতে বলে তখন কিছুটা প্র্যাকটিস হয়ে যায়। আমি চাই গিনেস বুক ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম তুলতে।”
অনেকেই নারকেল নিয়ে তাঁদের বাড়িতে আসেন সেটি ছাড়ানো দেখতে। কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে এক শিক্ষকের বদান্যতায় তিনি দাঁত দিয়ে নারকেল ছাড়িয়ে দেখানোর সুযোগ পেয়েছিলেন। তারপর থেকে অন্তত ২০টি অনুষ্ঠানে ডাক পেয়েছেন।
https://www.youtube.com/watch?v=G-wQV9OZZAM
নারকেল ছাড়াতে কেউ ব্যবহার করেন ছেনি, কেউ কাটারি। বিশ্বজিৎ কী ভাবে এই অসাধ্য সাধন করলেন?
বিশ্বজিতের কথায়, “ ছোট থেকেই দাঁত দিয়ে নারকেল ছাড়াচ্ছি। তেমন কিছু কঠিন লাগে না আর। এখন আমার কাছে এটা জলভাত।"
সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে চান বিশ্বজিৎ। তাই শরীরচর্চাও করেন। আর শখে করেন দাঁতের কসরত।
বিশ্বজিতের মা বিমলা বর্মন বলেন, “ছোটবেলা থেকেই আমার ছেলে দাঁত দিয়ে নারকেল ছাড়িয়ে ফেলে। দাঁতের ক্ষতি হবে বলে নিষেধ করতাম। শুনত না। এখনও ওই কাজ করে, জানি না কী হবে।”
দন্ত চিকিৎসক ঋতম চক্রবর্তী বলেন, “আমাদের শরীরের দাঁতে থাকা এনামেল সবচেয়ে শক্তিশালী। দাঁত দিয়ে হাড়ও গুঁড়ো করা যায়। দাঁত নিয়মিত ব্যবহার করলে দাঁতের শক্তি আরও বাড়ে। তবে নারকেল ছাড়ানোর সময় সতর্কতার সঙ্গে করা উচিত। ওই যুবকের নিশ্চয়ই এ কাজ করতে করতে অভ্যাস হয়ে গেছে। সেই কারণে এক মিনিটে পাঁচটি নারকেল ছাড়িয়ে ফেলতে পারেন।”
এলাকার লোকজন জানান, এমন কাজকে এলাকার লোক যে গুরুত্ব দেয়নি তা নয়, এ নিয়ে তাঁরা সময় সময় উপহাসও করেছেন। কিন্তু তাতে পাত্তা না দিয়ে নিজের কাজ করে গেছেন বিশ্বজিৎ। সেই কাজই এখন তাঁকে পরিচিতি দিয়েছে।